• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

আজ তারা, কাল হয়তো আমি কিংবা তুমি

আজ তারা, কাল হয়তো আমি কিংবা তুমি

অতিথি লেখক২৯ মার্চ ২০১৯, ০৪:২৩পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা। আকাশ ঢেকে গেছে কালো ধোঁয়ায়। বাতাসে শুধু পোড়া লাশের গন্ধ। মর্গে জমা হচ্ছে সারি সারি লাশ। একের পর এক লাশ এসে শামিল হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে।

কেউ কেউ ছবি তুলছেন মৃত্যুপুরীর। বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদে প্রকম্পিত হয়ে ওঠছে আকাশ-বাতাস। কেউ কেউ নির্বাক শ্রোতা হয়ে সেই আহাজারি শুনছে। শত শত গণমাধ্যমকর্মীরা সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে ব্যস্ত।

দমকল কর্মীদের অক্লান্ত চেষ্টার ফলে একসময় সেই ধ্বংসলীলার ইতি ঘটে। আর দিন শেষে খবরের শিরোনাম হয় ‘অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে’।

ওপরের দৃশ্যপট কোনো সিনেমার নয়। এটা বাস্তব। বাংলাদেশে রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে আগুন লাগার ঘটনা। ঘটনা যখন ঘটে তখন সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সাংবাদিক আর প্রশাসন সবাই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করতে থাকি। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার আশ্বাস দেন। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হবার একটি আনুষ্ঠানিকতার প্রতিশ্রুতি দেন। যে প্রতিশ্রুতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেবল সম্মান রক্ষার্থে করা হয়। সংবাদ সংগ্রহ করতে করতে দিন শেষে সাংবাদিকরাও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে ঘটনার রেশ কেটে যায়। আর এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথাও থাকে না।

তবে এসব নিয়ে কিন্তু অনেক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়, সুবিধা মতো দোষারোপ করে এবং সমস্যা প্রতিরোধে এক বিশাল লম্বা সুপারিশমালা তুলে ধরে। তবে সেই সুপারিশ ওই প্রতিবেদনের পাতায়ই আটকে থাকে। বাস্তবায়নের কোনো চেষ্টাও দেখা যায় না। কিছু দিন পত্রপত্রিকার শিরোনাম হবার পর সাংবাদিকরাও বিরক্ত হয়ে পড়েন। ফলে অবস্থা দাঁড়ায় এমন যে, ‘যেই লাউ সেই কদু’।

কিছুদিন পর আবারো সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সেই কান্না, সেই আহাজারি, সেই লাশের মিছিল। আবারো সেই তদন্ত কমিটি, পারস্পরিক দোষারোপ আর প্রতিশ্রুতির সংস্কৃতি।

অথচ আমরা কখনো এটা ভাবতে পারি না যে, আজ হয়ত এই হতভাগা মানুষগুলোর মৃত্যু হয়েছে, কাল তো আপনার কিংবা আমার একই পরিণতি হতে পারে? তবে কেন আমরা এই দোষারোপ আর প্রতিশ্রুতির ন্যাক্কারজনক সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারি না? আমাদের সমস্যাটা কোথায়? আমাদের কি এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করার সামর্থ্য নেই? না কি আমাদের একটু সদিচ্ছা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসার অভাব আছে? তা না হলে কেন আমরা প্রতিনিয়ত একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হচ্ছি? আমাদের গলদ কোথায়?

পুরান ঢাকার নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের কথা তো সবারই মনে আছে? আর ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। যা প্রায় ৮০ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয় জন মারা যায়।

চুড়িহাট্টা ট্রাজেডির রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ২৮ মার্চ বনানীর ২২ তলা ভবন এফআর টাওয়ারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন মারা যায় এবং অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়। ক্যামেরার সামনে জীবন্ত মানুষগুলো পুড়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য আর বেঁচে থাকার আকুতি দেখলে গা শিউরে ওঠে।

অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য আধুনিক বহুতল ভবনটিতেও ছিল সেই অব্যবস্থাপনা। একটি আধুনিক বহুতল ভবন হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ ওঠেছে। যে সামান্য ব্যবস্থাটুকু ছিল তাও কার্যকর ছিল না বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন। তাছাড়া ভবন নির্মাণেও নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো- এখন কেন আমরা এরকম দোষারোপ করছি? এতে কি যারা হারিয়ে গেছে তাদের ফিরে পাওয়া যাবে? তা না হলে এতদিন এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হলো না কেন? একটি অভিজাত এলাকায় এরকম একটি আধুনিক ভবন নির্মাণে নীতিমালা মানা হয়নি, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা  নেই- এই বিষয়গুলো কীভাবে প্রশাসন থেকে আড়াল থাকে? এর দায়ভার কি কোনো ভাবে প্রশাসন এড়াতে পারবে?

না, প্রশাসন কোনো ভাবেই এই দায়ভার এড়াতে পারে না? তাই এখনই সময়, আমি, আমরা, প্রশাসন সবাইকেই একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে। এবং এটা আমাদের স্বার্থেই। অন্যথায়, আজ হয়ত এই হতভাগা লোকগুলোর জীবন গেছে। কাল তো হতে পারে আমি কিংবা তুমি?

 

 

লেখক: এনামুক হক, সাংবাদিক

জাবির প্রক্টর ও অন্তরের অডিওতে যা আছে...

জাবির প্রক্টর ও অন্তরের অডিওতে যা আছে...

সদ্য ফাঁস হওয়া অডিও বার্তায় জাবির প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হামজা রহমান অন্তরের কথোপকথন রয়েছে। হামজা নিজেই এই ফোনালাপ ফাঁস করেন। এ ব্যাপারে আগে থেকে জানিয়েছিলেনও তিনি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

ঢাবি সিনেট থেকে অব্যাহতি চেয়ে শোভনের চিঠি

ঢাবি সিনেট থেকে অব্যাহতি চেয়ে শোভনের চিঠি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

জাবির সেই চাঁদার টাকা হয় হরিলুট, অন্তরের খোলা চিঠি

জাবির সেই চাঁদার টাকা হয় হরিলুট, অন্তরের খোলা চিঠি

কথপোকথনের এক পর্যায়ে হামজা রহমান অন্তরকে বলতে শোনা যায়, ক্যাম্পাসের ৪৪-৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে, আমি এটা গোপন রাখার কী আছে স্যার?....স্যার আপনি যদি চান, আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারবো, ৪৪-৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।

জাতীয়

প্রাথমিকে শিক্ষকপদে উত্তীর্ণদের যা করতে হবে

প্রাথমিকে শিক্ষকপদে উত্তীর্ণদের যা করতে হবে

উত্তীর্ণ প্রার্থীগণকে অনলাইনে আবেদনের আপলোডকৃত ছবি, আবেদনের কপি,লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র,নাগরিকত্ব সনদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ মুক্তিযোদ্ধা সনদ,মুক্তিযোদ্ধার সাথে সম্পর্ক সনদ,প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এতিম সংক্রান্ত সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কমপক্ষে ৯ম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর-২০১৯ অফিস চলাকালে নিজ নিজ জেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

রাজনীতি

ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাস   

ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাস  

চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের দায়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া গোলাম রাব্বানী নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান রাব্বানী। পোস্টে নিজের ভুলত্রুটির জন্য অনুতপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

খেলাধুলা

সৌম্যসহ চারজন বাদ, ফিরেছেন রুবেল-শফিউল

সৌম্যসহ চারজন বাদ, ফিরেছেন রুবেল-শফিউল

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। তাতে সৌম্য সরকারসহ চারজন দল থেকে বাদ পড়েছেন। আর নতুন করে দল অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন পাঁচজন। বাদ পড়াদের মধ্যে সৌম্য সরকার ছাড়াও রয়েছেন মেহেদী হাসান, ইয়াসিন মিশু ও আবু হায়দার রনি।

জাতীয়

ডেঙ্গু জ্বরে খুলনা মেডিকেলে আট মাসের শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে খুলনা মেডিকেলে আট মাসের শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রাফিত নামে আট মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এফআরবিস শনাক্ত: সত্যিই কি ভিনগ্রহীরা সংকেত পাঠাচ্ছে?

এফআরবিস শনাক্ত: সত্যিই কি ভিনগ্রহীরা সংকেত পাঠাচ্ছে?

হলিউড সিনেমা বা সাইন্সফিকশন গল্পে প্রায়ই এলিয়েনের দেখা মেলে। তবে পৃথিবীর বাইরে সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা, সে এক অজানা রহস্য। এই রহস্য সমাধানে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য

মনোযোগ বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

মনোযোগ বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমরা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাই, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেহও বার্ধক্যে উপনীত হয়। তবে, আনন্দের খবর হলো একটু হিসেব করে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যাভাস নির্বাচন করলে আমরা নিজেদের মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পারি।