• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

স্মার্টফোন: নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যম

স্মার্টফোন: নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যম

প্রযুক্তি ডেস্ক০৩ আগস্ট ২০১৯, ০৭:১৮পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

বিশ্বজুড়ে সহজলভ্য হচ্ছে ইন্টারনেট সেবা। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি। তবে উন্নতির সে দৌঁড়ে এখনো পুরুষের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নারীদের এ পিছিয়ে থাকা মানে হলো সামগ্রিকভাবে পশ্চাৎপদ পৃথিবী। তাই নারীদের এগিয়ে আনতে ইন্টারনেট বা স্মার্টফোনে নারীর সমান অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন।  

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমসে।

নিবন্ধটিতে গার্ল ইফেক্ট নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সিইও জেসিকা পসনার ওডেডে বলেন, শিক্ষা এবং শালীন কাজ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য এবং সহিংসতা পর্যন্ত এমন অঞ্চলে আজ ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মেয়ে এবং মহিলা লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে। তবুও মেয়েদের ক্ষমতায়নের অন্যতম কার্যকর উপায়- মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য অন্তর্ভুক্তি। যদিও এতে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।

তিনি বলেন, জিএসএমএ - মোবাইল অপারেটরদের জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্য সংস্থা অনুমান করেছে যে, বর্তমানে পাঁচ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের মোবাইল ডিভাইস রয়েছে যার অর্ধেকেরও বেশি স্মার্টফোন। তবে মোবাইল প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারণ সমানতালে হয়নি। যদিও গত পাঁচ বছরে মোবাইল ফোন রয়েছে এমন মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মহিলাদের সংখ্যা প্রায় ২৫০ মিলিয়ন বেড়েছে। এখনও মোবাইল ফোনসহ পুরুষদের তুলনায় ১৮৪ মিলিয়ন কম মহিলা রয়েছেন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্ভবত মহিলারা পুরুষদের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

একইভাবে, যদিও অল্প বয়সীরা তাদের বড়দের তুলনায় অধিক হারে মোবাইল ফোনের মালিক তবে এখানেও নারী-পুরুষে বৈষম্য রয়েছে। গার্ল এফেক্টের ২০১৮ সালের এক সমীক্ষা বলছে, একটি অলাভজনক সংস্থা যা মেয়েদের ক্ষমতায়নে মিডিয়া এবং মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তারা দেখিয়েছে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের স্মার্ট ফোনের মালিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দেড়গুণ বেশি।

তবে মালিকানায় অন্তর্ভুক্তির মতো নয় বরং মেয়েরা মোবাইল ডিভাইসটি তাদের হাতে পেতে সবচেয়ে বুদ্ধিমান উপায়গুলি প্রয়োগ করে। আমরা যখন সংস্থার পক্ষ হয়ে মেয়েদের সাক্ষাতকার নেই, তখন তাদের মধ্যে ভারত, মালাভি এবং তানজানিয়ার মত দেশগুলোর অন্তত অর্ধশতাধিক মেয়ে জানায়, তারা নিয়মিত তাদের বাবা-মা, ভাইবোন বা বন্ধুদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ধার করে। কেউ কেউ সিম কার্ড এবং ডিভাইস অন্যের সঙ্গেও ভাগাভাগি করে।

ইন্টারনেটে অন্তর্ভুক্তির বিশাল সুবিধার মধ্যে এটি একটি সুসংবাদ যে, এই অন্তর্ভুক্তিই কেবল শেষ নয় বরং এটি কেবল জ্ঞানের মাধ্যমেই নয় সংযোগের মাধ্যমেও বৈষম্য কমায়। এটি নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর একটা মাধ্যম। আজকাল, মোবাইল ফোনগুলি স্বাস্থ্য এবং আর্থিক পরিষেবাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিতে সময় ব্যয় করে।

তাই স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে নিজের জীবন সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য মোবাইলে সম্পৃক্ত হওয়া একটি ন্যায়সঙ্গত অধিকারও বটে।

মেয়েদের অনলাইনে প্রবেশ, তাদের নিজস্ব ডিভাইসের সুযোগ দেওয়া এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ। তবে আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা যে ডিভাইসগুলি ব্যবহার করছে তার পুরো সুবিধা নিতে তাদের পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সাক্ষরতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে অনেক বেশি বৈশিষ্ট্য এবং ক্ষমতা সম্পন্ন ফোন ব্যবহার করে।

এরপরও, মেয়েরা অনলাইন সুবিধা পেলে তারা কী খুঁজে পায় তা আমাদের অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। তারা যে তথ্য পায় তা কি সঠিক? তারা কি শোষণের ঝুঁকিতে রয়েছে? এই প্রশ্নগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া কিংবা উপেক্ষা করা হবে বিপজ্জনক।

আমাদের উচিত নিরাপদ অনলাইন স্পেস তৈরি করা। যেখান থেকে মেয়েরা তাদের জন্য উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবান পরিষেবাগুলি আবিষ্কার করতে পারে এবং মুখোমুখি অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এতে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস  বাড়বে, তারা স্বপ্নবাজ হয়ে উঠবে।

মেয়েরা যখন অনলাইনে প্রবেশের পূর্ণ সুযোগ পাবে তখন তারা হয় শিখতে চাইবে না হয় বিনোদন দেবে। আমাদের অবশ্যই তাদের সেখানে দেখা উচিত। এছাড়া তাদের জন্য এমন অভিজ্ঞতা প্রদান করা যা আকর্ষণীয় কিন্তু বিদঘুটে নয়। যেন ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব রয়েছে এমন কেউও যেন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে, সেবা পায়।  

ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা এবং মালাভির মেয়েরা ইতিমধ্যে এই জাতীয় প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে উপকৃত হচ্ছে এবং একই রকম উদ্যোগ ভারত এবং তানজানিয়ায় চালু করা হচ্ছে। এই সমস্ত পরিবেশ, পদ্ধতির স্থানীয় সহযোগিতা প্রয়োজন এবং দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

জেন্ডার সমতার সুদূরপ্রসারী এবং বিস্তৃতভাবে ভাগ-ভাগাভাগি করে নিরীক্ষণের কোনও অভাব নেই। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে মহিলা শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বাড়াতে দেশটির অর্থনীতিতে ৫ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হতে পারে। যা কর্মজীবীদের পুরো ২৭ ভাগকে ধনী করে তুলবে। ফলে তা উর্বরতার হার হ্রাস করে উচ্চতর বিনিয়োগে সক্ষম করে তুলবে। এতে করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ টেকসই হবে।

এই লাভজনক অবস্থাকে সুরক্ষিত করতে চাইলে সরকার এবং তার অংশীদারদের অবশ্যই প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে হবে। যাতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ে। তাদের জন্য নিরাপদ, আকর্ষক এবং তথ্যমূলক অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন হবে একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম।

 

টাইমস/এমএস/এইচইউ

সিলেট সিটির সাবেক ও বর্তমান মেয়রের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

সিলেট সিটির সাবেক ও বর্তমান মেয়রের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক ও বর্তমান মেয়রের স্ত্রী করোনাভাইরাসে

নটরডেম-হলিক্রসসহ চার্চ পরিচালিত ৪ কলেজে ভর্তি স্থগিত

নটরডেম-হলিক্রসসহ চার্চ পরিচালিত ৪ কলেজে ভর্তি স্থগিত

চার্চ (খ্রিস্টান মিশনারি) পরিচালিত চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একাদশে ভর্তি স্থগিত

সংসার সামলে প্রথম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডার ঢাবির পুনম!

সংসার সামলে প্রথম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডার ঢাবির পুনম!

হুমাইরা চৌধুরী পুনম। শেরপুরের এই ছাত্রী ক্লাসে সবসময় ফার্স্টগার্ল থাকতেন।

জাতীয়

করোনায় স্ত্রীর পর এবার বিমানের ক্যাপ্টেনও না ফেরার দেশে

করোনায় স্ত্রীর পর এবার বিমানের ক্যাপ্টেনও না ফেরার দেশে

স্ত্রীর মৃত্যুর পর এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট আলী আশরাফ খান। তার স্ত্রীও

জাতীয়

করোনায় আক্রান্ত ৫০ হাজার ও মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল

করোনায় আক্রান্ত ৫০ হাজার ও মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল

দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে একদিনে রেকর্ড ২ হাজার ৯১১ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এনিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৫২ হাজার ৪৪৫ জন। এছাড়া সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ডের দিনে দেশে কোভিড-১৯ এ আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে কোভিড-১৯ এ মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাড়াল ৭০৯ জনে।

স্বাস্থ্য

করোনা দুর্বল হয়নি এখনো শক্তিশালী

করোনা দুর্বল হয়নি এখনো শক্তিশালী

করোনাভাইরাস নিয়ে নানা আতঙ্কের মধ্যেই সম্প্রতি সুখবর দিয়েছিলেন ইতালির দুই চিকিৎসক। তারা দাবি করেছিলেন, এই ভাইরাস আগের মতো আর শক্তিশালী নেই। এই ভাইরাস দিন দিন শক্তি হারিয়ে দুর্বল হচ্ছে। কিন্তু এর জবাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, হুট করে এ ভাইরাস ক্ষতিকর ক্ষমতা হারিয়ে নির্বিষ হয়ে গেছে- এমন কোনো প্রমাণ নেই।

স্বাস্থ্য

করোনার ওষুধ আবিষ্কার রাশিয়ার

করোনার ওষুধ আবিষ্কার রাশিয়ার

কোভিড-১৯ রোগের একটি কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার করেছে রাশিয়া। রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) এবং রাশিয়ান ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম যৌথভাবে তৈরি ওষুধটি করেছে। ইতিমধ্যে অ্যাভিফ্যাভির নামের ওষুধটির অনুমোদন দিয়েছে রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহ থেকেই এর ব্যবহারে চিকিৎসা শুরু হবে। খবর সিএনবিসির

স্বাস্থ্য

মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফেরাবে 'বায়োনিক চোখ'

মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফেরাবে 'বায়োনিক চোখ'

যারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন চিকিৎসার মাধ্যমে তারা সেই দৃষ্টি ফিরে পেতে পারেন। কিন্তু যাদের চোখ নেই, কোনো কারণে চোখ হারিয়ে ফেলেছেন, তারা কি কোনোভাবে দেখতে পারেন? ওইসব মানুষকে আশার আলো দেখাচ্ছে হংকং ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের তৈরি ‘বায়োনিক চোখ’, যা দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। মানুষের চোখের মতোই স্পর্শকাতর এ ভিজ্যুয়াল প্রস্থেটিক নিয়ে রোবোটিক প্রকৌশলীরা বলছেন, সাড়ে ২৮ কোটি মানুষের এ ডিভাইসটি কাজে লাগতে পরে। গুড নিউজ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য

কোভিড-১৯ নিয়ে ইউটিউবের অনেক ভিডিও’র তথ্যই বিভ্রান্তিমূলক

কোভিড-১৯ নিয়ে ইউটিউবের অনেক ভিডিও’র তথ্যই বিভ্রান্তিমূলক

ইন্টারনেটে যেকোনো তথ্য কিংবা ভিডিও জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে রহস্যময় কোনো না কোনো কারণ থাকতে পারে, কিন্তু সঠিক তথ্য প্রদানের সাথে এর কোনো যোগসূত্র নেই বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিএমজে গ্লোবাল হেলথ কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, সার্স-কোভ-২ নিয়ে আলোচনা করা সর্বাধিক দেখা প্রতি চারটি ইউটিউব ভিডিওর মধ্যে একটিতে বিভ্রান্তিমূলক বা ভুল তথ্য রয়েছে।