• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬

সৌন্দর্যের আরেক নাম সুন্দরবনের কটকা সৈকত

সৌন্দর্যের আরেক নাম সুন্দরবনের কটকা সৈকত

ফিচার ডেস্ক০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:২৯পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশের চারদিকে রয়েছে সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি। মাঠের পর মাঠ, এঁকে-বেঁকে চলা অসংখ্য নদ-নদী, চারিদিকে ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজির সমাহার রয়েছে এখানে। এই অপরূপ দৃশ্য দেখলে মন ভরে যায়। আমাদের দেশের অন্যতম সুন্দর একটি স্থান সুন্দরবন। এই সুন্দরবনকে ঘিরে রয়েছে অজস্র আকর্ষণীয় স্থান। তার মধ্যে অন্যতম একটি হল কটকা সমুদ্র সৈকত।

সুন্দরবনের দক্ষিণ পূর্ব কোণে খুলনা ও বাগেরহাটে অবস্থিত কটকা সমুদ্র সৈকত। এটি মংলাবন্দর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সুন্দরবন পূর্ব অভয়ারণ্যের মধ্যে প্রধান কেন্দ্র।

সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু বনে বাঘের দেখা মেলা যেমন ভার, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও বটে। তবে বাঘের দেখা পাওয়া ও নিরাপদে থাকা দুই-ই সম্ভব সুন্দরবনের চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র কটকা অভয়ারণ্য থেকে। এখানে প্রায়ই দেখা মেলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। এছাড়া মনোরম চিত্রা হরিণের দল, বিভিন্ন জাতের পাখি, শান্ত প্রকৃতি এবং বিভিন্ন বন্য প্রাণীর উপস্থিতি এসবই এ স্থানটিকে অসাধারণ সৌন্দর্য দিয়ে ভরে দিয়েছে।

বন কার্যালয়ের পেছন দিক থেকে সোজা পশ্চিমমুখী কাঠের তৈরি টেইলের উত্তর পাশের খালটির ভাটার সময় ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদের ঘন শ্বাসমূল দেখা যায়। এছাড়া একটু শান্ত থাকলে বা নিরিবিলি যেতে পারলে এখানে দেখা মিলতে পারে চিত্রা হরিণেরও। ট্রেইলের শেষ মাথায় হাতের ডানে সোজা দক্ষিণে মিনিট হাঁটলে পাবেন টাইগার টিলা। এ টিলায় প্রায়ই বাঘের ছাপ দেখতে পাওয়া যায় বলেই টিলাটির এমনতর নামকরণ। টাইগার টিলা থেকে সামান্য পশ্চিমে বয়ার খাল। দুইপাশে কেওড়া, গোলপাতা আর নানান পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে জায়গাটি।

এছাড়া কটকার জেটির উত্তরে খালের চরজুড়ে থাকা কেওড়ার বনেও দেখা মেলে দলবদ্ধ চিত্রা হরিণ, বানর আর শূকরের। আবার শীতের সময় দেখা মিলে যেতে পারে রোদ পোহানো লোনা জলের কুমির। কটকা বন কার্যালয়ের ঠিক ওপারে একটি ছোট খাড়ি চলে গেছে সোজা পূর্ব দিকে। এই পথে কিছু দূর যাওয়ার পরে হাতের ডানে ছোট্ট জেটি এবং ওপরে ওয়াচ টাওয়ার। কটকার ওয়াচ টাওয়ারটি চারতলা বিশিষ্ট। ৪০ ফুট উচ্চ টাওয়ার থেকে উপভোগ করা যায় সুন্দরবনের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত আছে এখানে। ওয়াচ টাওয়ার হতে ফেরার সময় হেঁটে বীচের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পূর্বে দীর্ঘ বন আর মাঝে মিঠা জলের পুকুর। এই পুকুরের পানি পান করেন কর্মরত কোস্ট গার্ড, ফরেস্ট অফিসার ও স্থানীয় জেলেরা। এখান থেকে আশেপাশে তাকালে দেখা মিলে সুন্দরবনের প্রায় বিপন্ন প্রাণীদের। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার থেকে খানিকটা সামনে এগোলে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি খালের মাঝেও দেখতে পাবেন বিপুল সংখ্যক বন্যপ্রাণী।

কিভাবে যাবেন:

কটকায় যাবার প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম হলো লঞ্চ। আর পর্যটকদের নিয়ে এই লঞ্চ নোঙ্গর করা হয় কটকা খালে। রাজধানী ঢাকার গাবতলি ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রথমে খুলনা বা বাগেরহাট গামী বাসে করে খুলনা আসতে হবে আপনাকে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাগেরহাটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা পরিবহন, শাকুরা পরিবহন, পর্যটক পরিবহন, সোহাগ পরিবহন।

খুলনা থেকে রূপসা বা বাগেরহাটের মংলা বন্দর থেকে লঞ্চ পাবেন সুন্দরবন যাওয়ার। এছাড়া বাগেরহাটের মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা থেকেও সুন্দরবন যাওয়ার নৌযান পাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন:

টুরিস্ট ভেসেল বা নৌযান ছাড়াও সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে হিরণ পয়েন্টের নীলকমল এবং টাইগার পয়েন্টের কচিখালী ও কটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। যার ফি নীলকমলে দেশি পর্যটকদের জন্য প্রতি কক্ষ ৩ হাজার টাকা, চার কক্ষ ১২ হাজার টাকা। কচিখালী প্রতি কক্ষ ৩ হাজার টাকা, চার কক্ষ ১০ হাজার টাকা। কটকা প্রতি কক্ষ ২ হাজার টাকা, দুই কক্ষ ৪ হাজার টাকা।

এছাড়া সুন্দরবনের পাশে সাতক্ষীরা শহরে সাধারণ মানের হোটেল ও শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্ট হাউজ ও ডরমিটরিতে একক, পরিবার ও গ্রুপ নিয়ে থাকার সুবিধা রয়েছে।

এছাড়াও মংলায় থাকতে চাইলে আছে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল, পশুর বন্দরেও আছে সাধারণ মানের হোটেল। খুলনা মহানগরে আছে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন, হোটেল সিটি ইন ইত্যাদি মানসম্পন্ন হোটেল ও কিছু সাধারণ মানের হোটেল।

খরচ:

কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রত্যেক দেশী পর্যটকের প্রতিদিনের ভ্রমণ ফি- ১৫০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী ৩০ টাকা, বিদেশী পর্যটক ১৫০০ টাকা। অভয়ারণ্যের বাইরে দেশী পর্যটক ৭০ টাকা ও বিদেশী পর্যটক ১০০০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী ২০ টাকা, গবেষক ৪০ টাকা। করমজলে দেশী পর্যটক ২০ টাকা, বিদেশী পর্যটক ৩০০ টাকা।

হেলিকপ্টার/সী প্লেন এককালীন ৩০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা। ১০০ ফুটের ঊর্ধ্বে¦ লঞ্চ ১৫ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা, লঞ্চ ৫০ ফুট থেকে ১০০ ফুট এককালীন ১০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ৩ হাজার টাকা। ৫০ ফুটের নিচে সাড়ে সাত হাজার টাকা ও নবায়ন ফি আড়াই হাজার টাকা, ট্রলার ৩ হাজার টাকা ও নবায়ন ১৫০০ টাকা। স্পিড বোট ৫ হাজার টাকা ও ২ হাজার টাকা। জালিবোট (টুরিস্ট বোট) ২ হাজার টাকা ও ১ হাজার টাকা।

বন বিভাগের নির্দিষ্ট ভ্রমণ ফি ছাড়াও প্রতিদিন গাইড ফি ৫০০ টাকা, লঞ্চ ক্রু ফি ৭০ টাকা, নিরাপত্তা গার্ড ফি ৩০০ টাকা, টেলিকমিউনিকেশন ফি ২০০ টাকা।

 

টাইমস/এইচইউ

ভেঙে ফেলা ‘জাহাজবাড়ি’ স্থাপনায় নতুন নকশা অনুমোদন না দিতে রাজউককে সরকারের চিঠি   

ভেঙে ফেলা ‘জাহাজবাড়ি’ স্থাপনায় নতুন নকশা অনুমোদন না দিতে রাজউককে সরকারের চিঠি  

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ভেঙে ফেলা পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জাহাজবাড়ি স্থাপনায় নতুন নকশা অনুমোদন না দিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) চিঠি দিয়েছে সরকার। গত ১০ এপ্রিল রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর চিঠিটি পাঠায় বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসন। ওই চিঠির একটি কপি বাংলাদেশ টাইমসের হাতে এসেছে।  

ডিআইজি মিজানের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

ডিআইজি মিজানের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি মিজানুর রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।

জুলাইয়ে লাইসেন্স পাচ্ছে রাইড সার্ভিস কোম্পানিগুলো

জুলাইয়ে লাইসেন্স পাচ্ছে রাইড সার্ভিস কোম্পানিগুলো

নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে রাইড সেবাদাতা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও নীতিমালা না থাকায় এত দিন ব্যবস্থা নিতে পারছিল না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। অবশেষে অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবাদাতা কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।

জাতীয়

প্রত্যেকে কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী

প্রত্যেকে কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে, যে কোনো প্রকল্পের সঙ্গে বৃক্ষ রোপণ করতেই হবে এবং জলাধার সৃষ্টি এবং জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে কর্মস্থলে ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সন্তানদেরও এই পরিবেশবাদী কাজ শেখানোর পরামর্শ দেন।

জাতীয়

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মা-ভাইয়ের ভয়াবহ সব অভিযোগ

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মা-ভাইয়ের ভয়াবহ সব অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল, মা-ভাইকে বাসা থেকে বের করে দেয়া, গ্রেপ্তারের হুমকিসহ নানা অভিযোগ করেছেন তার মা ও ভাই। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল রিপোর্টার্স ফোরামের(এলাআরএফ) কার্যালয়ে তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তসলিম ও ভাই শাহনেওয়াজ শিশির সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে সামসুন নাহার তসলিম একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

জাতীয়

নুসরাত হত্যার বিচারকার্য শুরু

নুসরাত হত্যার বিচারকার্য শুরু

আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যা মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু হয়েছে। যার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে আগামী ২৭ জুন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আইন আদালত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৯ জনের ফাঁসির রায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৯ জনের ফাঁসির রায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার যুবলীগ নেতা ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামকে হত্যার দায়ে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জাতীয়

রাজীবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

রাজীবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

গতবছর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে কলেজছাত্র রাজীব হাসানের হাত হারানো ও পরে মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে এ ক্ষতিপূরণ দেবে দুই বাস কর্তৃপক্ষ।

বিনোদন

দুঃসময় যাচ্ছে শাহরুখের!

দুঃসময় যাচ্ছে শাহরুখের!

বয়স ৫২ পেরোলেও অনেক ভক্তদের ‘স্বপ্নের নায়ক’ শাহরুখ খান। তবে অনেকদিন ধরে সিনেমা হিট না হওয়ায় মিডিয়া থেকে অনেকটা পিছু হটেছেন তিনি। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে অকপটে স্বীকারও করে নিচ্ছেন নিজের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত! তবে সব কিছু মিলিয়ে একাধিক সিনেমা ফ্লপ হওয়ায় অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান।