• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

সৌন্দর্যের আরেক নাম সুন্দরবনের কটকা সৈকত

সৌন্দর্যের আরেক নাম সুন্দরবনের কটকা সৈকত

ফিচার ডেস্ক০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৪:২৯পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশের চারদিকে রয়েছে সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি। মাঠের পর মাঠ, এঁকে-বেঁকে চলা অসংখ্য নদ-নদী, চারিদিকে ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজির সমাহার রয়েছে এখানে। এই অপরূপ দৃশ্য দেখলে মন ভরে যায়। আমাদের দেশের অন্যতম সুন্দর একটি স্থান সুন্দরবন। এই সুন্দরবনকে ঘিরে রয়েছে অজস্র আকর্ষণীয় স্থান। তার মধ্যে অন্যতম একটি হল কটকা সমুদ্র সৈকত।

সুন্দরবনের দক্ষিণ পূর্ব কোণে খুলনা ও বাগেরহাটে অবস্থিত কটকা সমুদ্র সৈকত। এটি মংলাবন্দর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সুন্দরবন পূর্ব অভয়ারণ্যের মধ্যে প্রধান কেন্দ্র।

সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু বনে বাঘের দেখা মেলা যেমন ভার, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও বটে। তবে বাঘের দেখা পাওয়া ও নিরাপদে থাকা দুই-ই সম্ভব সুন্দরবনের চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র কটকা অভয়ারণ্য থেকে। এখানে প্রায়ই দেখা মেলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। এছাড়া মনোরম চিত্রা হরিণের দল, বিভিন্ন জাতের পাখি, শান্ত প্রকৃতি এবং বিভিন্ন বন্য প্রাণীর উপস্থিতি এসবই এ স্থানটিকে অসাধারণ সৌন্দর্য দিয়ে ভরে দিয়েছে।

বন কার্যালয়ের পেছন দিক থেকে সোজা পশ্চিমমুখী কাঠের তৈরি টেইলের উত্তর পাশের খালটির ভাটার সময় ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদের ঘন শ্বাসমূল দেখা যায়। এছাড়া একটু শান্ত থাকলে বা নিরিবিলি যেতে পারলে এখানে দেখা মিলতে পারে চিত্রা হরিণেরও। ট্রেইলের শেষ মাথায় হাতের ডানে সোজা দক্ষিণে মিনিট হাঁটলে পাবেন টাইগার টিলা। এ টিলায় প্রায়ই বাঘের ছাপ দেখতে পাওয়া যায় বলেই টিলাটির এমনতর নামকরণ। টাইগার টিলা থেকে সামান্য পশ্চিমে বয়ার খাল। দুইপাশে কেওড়া, গোলপাতা আর নানান পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে জায়গাটি।

এছাড়া কটকার জেটির উত্তরে খালের চরজুড়ে থাকা কেওড়ার বনেও দেখা মেলে দলবদ্ধ চিত্রা হরিণ, বানর আর শূকরের। আবার শীতের সময় দেখা মিলে যেতে পারে রোদ পোহানো লোনা জলের কুমির। কটকা বন কার্যালয়ের ঠিক ওপারে একটি ছোট খাড়ি চলে গেছে সোজা পূর্ব দিকে। এই পথে কিছু দূর যাওয়ার পরে হাতের ডানে ছোট্ট জেটি এবং ওপরে ওয়াচ টাওয়ার। কটকার ওয়াচ টাওয়ারটি চারতলা বিশিষ্ট। ৪০ ফুট উচ্চ টাওয়ার থেকে উপভোগ করা যায় সুন্দরবনের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত আছে এখানে। ওয়াচ টাওয়ার হতে ফেরার সময় হেঁটে বীচের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পূর্বে দীর্ঘ বন আর মাঝে মিঠা জলের পুকুর। এই পুকুরের পানি পান করেন কর্মরত কোস্ট গার্ড, ফরেস্ট অফিসার ও স্থানীয় জেলেরা। এখান থেকে আশেপাশে তাকালে দেখা মিলে সুন্দরবনের প্রায় বিপন্ন প্রাণীদের। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার থেকে খানিকটা সামনে এগোলে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি খালের মাঝেও দেখতে পাবেন বিপুল সংখ্যক বন্যপ্রাণী।

কিভাবে যাবেন:

কটকায় যাবার প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম হলো লঞ্চ। আর পর্যটকদের নিয়ে এই লঞ্চ নোঙ্গর করা হয় কটকা খালে। রাজধানী ঢাকার গাবতলি ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রথমে খুলনা বা বাগেরহাট গামী বাসে করে খুলনা আসতে হবে আপনাকে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাগেরহাটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা পরিবহন, শাকুরা পরিবহন, পর্যটক পরিবহন, সোহাগ পরিবহন।

খুলনা থেকে রূপসা বা বাগেরহাটের মংলা বন্দর থেকে লঞ্চ পাবেন সুন্দরবন যাওয়ার। এছাড়া বাগেরহাটের মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা থেকেও সুন্দরবন যাওয়ার নৌযান পাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন:

টুরিস্ট ভেসেল বা নৌযান ছাড়াও সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে হিরণ পয়েন্টের নীলকমল এবং টাইগার পয়েন্টের কচিখালী ও কটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। যার ফি নীলকমলে দেশি পর্যটকদের জন্য প্রতি কক্ষ ৩ হাজার টাকা, চার কক্ষ ১২ হাজার টাকা। কচিখালী প্রতি কক্ষ ৩ হাজার টাকা, চার কক্ষ ১০ হাজার টাকা। কটকা প্রতি কক্ষ ২ হাজার টাকা, দুই কক্ষ ৪ হাজার টাকা।

এছাড়া সুন্দরবনের পাশে সাতক্ষীরা শহরে সাধারণ মানের হোটেল ও শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্ট হাউজ ও ডরমিটরিতে একক, পরিবার ও গ্রুপ নিয়ে থাকার সুবিধা রয়েছে।

এছাড়াও মংলায় থাকতে চাইলে আছে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল, পশুর বন্দরেও আছে সাধারণ মানের হোটেল। খুলনা মহানগরে আছে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন, হোটেল সিটি ইন ইত্যাদি মানসম্পন্ন হোটেল ও কিছু সাধারণ মানের হোটেল।

খরচ:

কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রত্যেক দেশী পর্যটকের প্রতিদিনের ভ্রমণ ফি- ১৫০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী ৩০ টাকা, বিদেশী পর্যটক ১৫০০ টাকা। অভয়ারণ্যের বাইরে দেশী পর্যটক ৭০ টাকা ও বিদেশী পর্যটক ১০০০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী ২০ টাকা, গবেষক ৪০ টাকা। করমজলে দেশী পর্যটক ২০ টাকা, বিদেশী পর্যটক ৩০০ টাকা।

হেলিকপ্টার/সী প্লেন এককালীন ৩০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা। ১০০ ফুটের ঊর্ধ্বে¦ লঞ্চ ১৫ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা, লঞ্চ ৫০ ফুট থেকে ১০০ ফুট এককালীন ১০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ৩ হাজার টাকা। ৫০ ফুটের নিচে সাড়ে সাত হাজার টাকা ও নবায়ন ফি আড়াই হাজার টাকা, ট্রলার ৩ হাজার টাকা ও নবায়ন ১৫০০ টাকা। স্পিড বোট ৫ হাজার টাকা ও ২ হাজার টাকা। জালিবোট (টুরিস্ট বোট) ২ হাজার টাকা ও ১ হাজার টাকা।

বন বিভাগের নির্দিষ্ট ভ্রমণ ফি ছাড়াও প্রতিদিন গাইড ফি ৫০০ টাকা, লঞ্চ ক্রু ফি ৭০ টাকা, নিরাপত্তা গার্ড ফি ৩০০ টাকা, টেলিকমিউনিকেশন ফি ২০০ টাকা।

 

টাইমস/এইচইউ

জাবির প্রক্টর ও অন্তরের অডিওতে যা আছে...

জাবির প্রক্টর ও অন্তরের অডিওতে যা আছে...

সদ্য ফাঁস হওয়া অডিও বার্তায় জাবির প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হামজা রহমান অন্তরের কথোপকথন রয়েছে। হামজা নিজেই এই ফোনালাপ ফাঁস করেন। এ ব্যাপারে আগে থেকে জানিয়েছিলেনও তিনি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

ঢাবি সিনেট থেকে অব্যাহতি চেয়ে শোভনের চিঠি

ঢাবি সিনেট থেকে অব্যাহতি চেয়ে শোভনের চিঠি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

জাবির সেই চাঁদার টাকা হয় হরিলুট, অন্তরের খোলা চিঠি

জাবির সেই চাঁদার টাকা হয় হরিলুট, অন্তরের খোলা চিঠি

কথপোকথনের এক পর্যায়ে হামজা রহমান অন্তরকে বলতে শোনা যায়, ক্যাম্পাসের ৪৪-৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে, আমি এটা গোপন রাখার কী আছে স্যার?....স্যার আপনি যদি চান, আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারবো, ৪৪-৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।

জাতীয়

প্রাথমিকে শিক্ষকপদে উত্তীর্ণদের যা করতে হবে

প্রাথমিকে শিক্ষকপদে উত্তীর্ণদের যা করতে হবে

উত্তীর্ণ প্রার্থীগণকে অনলাইনে আবেদনের আপলোডকৃত ছবি, আবেদনের কপি,লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র,নাগরিকত্ব সনদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ মুক্তিযোদ্ধা সনদ,মুক্তিযোদ্ধার সাথে সম্পর্ক সনদ,প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এতিম সংক্রান্ত সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কমপক্ষে ৯ম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর-২০১৯ অফিস চলাকালে নিজ নিজ জেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

রাজনীতি

ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাস   

ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাস  

চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের দায়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া গোলাম রাব্বানী নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান রাব্বানী। পোস্টে নিজের ভুলত্রুটির জন্য অনুতপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

খেলাধুলা

সৌম্যসহ চারজন বাদ, ফিরেছেন রুবেল-শফিউল

সৌম্যসহ চারজন বাদ, ফিরেছেন রুবেল-শফিউল

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। তাতে সৌম্য সরকারসহ চারজন দল থেকে বাদ পড়েছেন। আর নতুন করে দল অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন পাঁচজন। বাদ পড়াদের মধ্যে সৌম্য সরকার ছাড়াও রয়েছেন মেহেদী হাসান, ইয়াসিন মিশু ও আবু হায়দার রনি।

জাতীয়

ডেঙ্গু জ্বরে খুলনা মেডিকেলে আট মাসের শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে খুলনা মেডিকেলে আট মাসের শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রাফিত নামে আট মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এফআরবিস শনাক্ত: সত্যিই কি ভিনগ্রহীরা সংকেত পাঠাচ্ছে?

এফআরবিস শনাক্ত: সত্যিই কি ভিনগ্রহীরা সংকেত পাঠাচ্ছে?

হলিউড সিনেমা বা সাইন্সফিকশন গল্পে প্রায়ই এলিয়েনের দেখা মেলে। তবে পৃথিবীর বাইরে সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা, সে এক অজানা রহস্য। এই রহস্য সমাধানে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য

মনোযোগ বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

মনোযোগ বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমরা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাই, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেহও বার্ধক্যে উপনীত হয়। তবে, আনন্দের খবর হলো একটু হিসেব করে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যাভাস নির্বাচন করলে আমরা নিজেদের মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পারি।