• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় বন: অ্যামাজন জঙ্গল

পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় বন: অ্যামাজন জঙ্গল

ফিচার ডেস্ক১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১০এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

পৃথিবীর সব থেকে বড় রেইনফরেস্ট অ্যামাজনের অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন নদী বিধৌত অঞ্চলে। বনাঞ্চলটি অ্যামাজন অরণ্য, অ্যামাজন বন, অ্যামাজন জঙ্গল বা অ্যামাজন রেইনফরেস্ট প্রভৃতি নামে পরিচিত। প্রকৃতির লীলাভূমি এই বিশাল বনটিকে পৃথিবীর ফুসফুস বলেও ডাকা হয়ে থাকে।

অ্যামাজন জঙ্গল এতটাই বিশাল যে, তা পৃথিবীর সমস্ত রেইনফরেস্টের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেক। দ. আমেরিকার নয়টি দেশজুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বনভূমির আয়তন প্রায় ৫৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার। বনের প্রায় ৬০ শতাংশের অবস্থান ব্রাজিলে, ১৩ শতাংশ পেরুতে এবং কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম ও ফরাসি গায়ানা জুড়ে রয়েছে এর বাকি অংশ।

প্রায় ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা পরিবেষ্টিত এলাকাটি মূলত আর্দ্র জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। অ্যামাজনের বনরাজির বৈচিত্র্য পৃথিবীর যে কোনো অঞ্চলের থেকে বেশি। ইউএসএ টুডের তথ্য অনুযায়ী এ বনে আম, কলা, পেয়ারা, সুপারি প্রভৃতিসহ প্রায় ৪০ হাজার প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে।

এছাড়াও অ্যামাজনে রয়েছে বহু ঔষধি গাছের সমাহার। জীব বৈচিত্র্যের আধার এই বনটিতে প্রায় ৩০ হাজার প্রজাতির মাছ, ১ হাজার ২৯৪ প্রজাতির পাখি, ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৪২৮ প্রজাতির উভচর এবং ৩৭৪ প্রজাতির সরীসৃপের বসবাস।

জগতে যত পাখি আছে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ বসবাস করে দক্ষিণ আমেরিকার এই বনে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঈগল, টুকান, হোয়াটজিন, দ্রুতগামী হামিং বার্ড এবং রং-বেরঙের নাম না জানা আরও অনেক পাখি। বনের উল্লেখযোগ্য স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো হলো- জাগুয়ার, গোলাপি ডলফিন, তামানডুয়া, তাপির, মানাতি, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, বাদুড় ইত্যাদি।

স্বাদু পানির অন্যতম বড় মাছ পিরারুকুর বসবাস অ্যামাজনের নদীতে। এ মাছটির ওজন প্রায় ১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও মাংসাশী লাল পিরানহা ও বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক ঈল এখানে উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া রয়েছে কুমির, অ্যালিগেটর, কচ্ছপ প্রভৃতি।

উভচর প্রাণীর মধ্যে লাল চোখ বিশিষ্ট গেছ ব্যাঙের নাম না বললেই নয়। সরীসৃপের মধ্যে আছে বিখ্যাত সাপ ‘বোয়া’ যে তার শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। এছাড়াও রয়েছে ‘অ্যানাকোন্ডা’ যার কথা কমবেশি সবাই শুনেছেন।

অ্যামাজনের জঙ্গল দীর্ঘদিন ধরে নানা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল। পত্রিকাটির মতে, ১৫০০ খৃষ্টাব্দের দিকে শুধু ব্রাজিলিয়ান আমাজনেই ৬০-৯০ লাখ লোকের বসবাস ছিল। কিন্তু, পশ্চিমা উপনিবেশায়নের সময় এদের অনেককেই হত্যা করা হয়, ফলে ১৯০০ শতকের দিকে সেখানে জনসংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ১০ লাখে।

২০১১ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ব্রাজিলের অ্যামাজনে আদিবাসীর সংখ্যা কমে প্রায় ২.৫ লাখে দাঁড়িয়েছে, যারা ২১৫টি জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১৭০ ধরনের ভাষার প্রচলন রয়েছে।

তবে, সমগ্র অ্যামাজন অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৩৫০টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠীর লোকেদের বসবাস। যাদের অনেকেই এখন শহরে বা শহর সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে, তবে জীবন নির্বাহের জন্য এরা এখনও অ্যামাজনের উপর নির্ভরশীল।

আশংকার কথা হলো, প্রতিদিন প্রায় একটি ফুটবল মাঠের সমান বনভূমি অ্যামাজনের জঙ্গল থেকে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বিজনেস ইনসাইডার জানাচ্ছে, শুধু ২০১৯ সালের জুলাই মাসে অ্যামাজন জঙ্গলের প্রায় ১,৩৪৫ কি.মি. বনভূমি ধ্বংস হয়ে গেছে। যা এক মাসে অ্যামাজনের সব থেকে বেশি বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়ার রেকর্ড। বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো অগ্নিকাণ্ড।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকান্ডের ফলে ‘অ্যামাজন জঙ্গলের বনভূমি উজাড়’ বিশ্ব জুড়ে আলোচনায় উঠে আসে। ১৫ই আগস্ট থেকে ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে অ্যামাজনের জঙ্গল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ব্রাজিলে প্রায় ৮০ হাজার আগুনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি আগুনের ঘটনা ঘটেছে বিশ্বের মোট অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরও বেশির যোগানদাতা এই জঙ্গলটিতে।

পেনিসিলভেনিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জেমস এলকক বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন যে, অ্যামাজন জঙ্গল আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে। অপরিকল্পিত বন নিধনই হবে এর কারণ।

তবে আশার কথা হলো, কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে অ্যামাজন বনভূমির সুরক্ষায় একত্রে কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়েনা, পেরু ও সুরিনাম। আর বিশ্ব জুড়ে পরিবেশ সচেতন মানুষের দাবি, পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবার আগেই বনটি সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তথ্যসূত্র: ইউএসএ টুডে, ব্রিটানিকা.কম, উইকিপিডিয়া.কম, বিবিসি.কম।

 

টাইমস/এনজে/জিএস

শপথ নিলেন ঢাকার দুই সিটির মেয়র

শপথ নিলেন ঢাকার দুই সিটির মেয়র

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত দুই মেয়র ও

চসিক মেয়র নাছিরকে নিয়ে ফরম জমা দিলেন রেজাউল

চসিক মেয়র নাছিরকে নিয়ে ফরম জমা দিলেন রেজাউল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক

নির্বাচনে হেরে দিল্লিতে দাঙ্গা করছে বিজেপি

নির্বাচনে হেরে দিল্লিতে দাঙ্গা করছে বিজেপি

নির্বাচনে হেরে গিয়েই দিল্লিতে দাঙ্গা শুরু করেছে বিজেপি, শিব সেনার

জাতীয়

নারায়ণগঞ্জে চোর চক্রের ৭ সদস্য আটক

নারায়ণগঞ্জে চোর চক্রের ৭ সদস্য আটক

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে র‍্যাব-১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান। এর আগে বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা, রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া ও ঢাকার ডেমরায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে র‍্যাব।

জাতীয়

পুঠিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

পুঠিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার আনুমানিক বয়স ৩০ বছর। বৃহস্পতিবার বেলপুকুর রেলক্রসিংয়ের অদূরে সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পশ্চিম রেলওয়ের ইশ্বরদী জিআরপি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

যা কিছু প্রথম

জেনে নিন, টেলিস্কোপ আবিষ্কারের ইতিহাস

জেনে নিন, টেলিস্কোপ আবিষ্কারের ইতিহাস

বহুদূরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকে দেখার উপযোগী যন্ত্রকে বলা হয় টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ। নলাকৃতির এই যন্ত্রটি সাধারণত লেন্স ও দর্পণ দিয়ে তৈরি করা হয়। এ ধরণের যন্ত্রের সাহায্যে দূরের বস্তু আরও উজ্জ্বলভাবে বা অস্পষ্ট বস্তু আরও স্পষ্ট করে দেখা যায়। টেলিস্কোপের আবিষ্কার নিয়ে মূলত গ্যালিলিওকে কৃতিত্ব দেয়া হলেও টেলিস্কোপের আবিষ্কার হয়েছিল তারও বেশ কিছুদিন আগে!

জাতীয়

ফুলপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর শ্রীপুর থেকে উদ্ধার চার ছাত্রী

ফুলপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর শ্রীপুর থেকে উদ্ধার চার ছাত্রী

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা থেকে নিখোঁজের ৫ দিন পর দুই বোনসহ চার ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের বেতজুড়ি গ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ফুলপুর থানা পুলিশ।

স্বাস্থ্য

দই খেলে দূর হবে পেটের ব্যথাসহ নানা সমস্যা

দই খেলে দূর হবে পেটের ব্যথাসহ নানা সমস্যা

দই আমাদের অতিপরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই দই খেতে পছন্দ করেন। এটি যে কেবল স্বাদেই অসাধারণ তা কিন্তু নয়, হজমে সহায়তা করাসহ ত্বককে সুস্থ রাখতে দইয়ের ভূমিকাও অতুলনীয়। মশলাদার খাবারের পর দই খাওয়ার রীতি আমাদের সমাজে এখনো অনেক জায়গায় প্রচলিত রয়েছে। এটি কিন্তু এমনি এমনি সৃষ্টি কোনো রীতি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

কৃষি কথা

আধুনিক পদ্ধতিতে শালগম চাষ

আধুনিক পদ্ধতিতে শালগম চাষ

শালগম বাংলাদেশে সুপরিচিত হলেও এর উৎপাদনের পরিমাণ খুব কম। এটি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর উপযোগী ফসল। ১৫-২০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় এটি সবচেয়ে ভালো জন্মে। শালগম চাষের দু’মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয়ে যায়। আমাদের দেশে কেবল রবি মৌসুমে শালগমের চাষ সম্ভব। কারণ, শালগমের চারা কচি থাকা অবস্থায় বৃষ্টি হলে ফসল সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।