• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭

ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে গ্রাহকদের জিম্মি করা হলে, সরকারিকরণের কথা ভাবতে হবে

ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে গ্রাহকদের জিম্মি করা হলে, সরকারিকরণের কথা ভাবতে হবে

নাবিল জাহাঙ্গীর১৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২৬পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অভিযানে ঝুলন্ত তার অপসারণের প্রতিবাদে রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সারাদেশে ইন্টারনেট ও কেবল সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও কেবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) নেতৃবৃন্দ। তবে আইএসপিএবি ও কোয়াব এর সাথে ডিএসসিসি’র যে সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য কিন্তু কোনভাবেই সারাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও কেবল ব্যবহারকারীরা দায়ী নন। অথচ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদেরই জিম্মি করে ডিএসসিসি’র কাছ থেকে দাবি আদায় করতে চাইছে!

ঝুলন্ত তার অপসারণ নিয়ে ডিএসসিসি’র সাথে যে সমন্বয়হীনতার তৈরি হয়েছে সেরকম অচল অবস্থা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সাথে নেই। ডিএসসিসি’র সাথে সমন্বয়হীনতার কারণে সারাদেশের গ্রাহকদেরকে ভোগান্তিতে ফেলা হবে, ডিএনসিসি যে ইতিবাচক সমন্বয় সাধন করলো তার সুফলও কি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে? ডিএসসিসি’র ঝাল তো সারাদেশের গ্রাহকদের উপর মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইএসপিএবি ও কোয়াব নেতৃবৃন্দ, কিন্তু ডিএনসিসি’র এই ইতিবাচক মনোভাবের কী প্রতিদান দিলেন তারা?

হঠাৎ করে তার কেটে দেয়া হলে সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে নানা সমস্যায় পড়তে হবে, গ্রাহকদেরকেও ভোগান্তির শিকার হতে হবে এবং একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ঝুলন্ত তার অপসারণের জন্য অবশ্যই সুন্দর সমন্বয় প্রয়োজন। সে জন্য দুপক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে। আলোচনার পথে সেটা হতে পারে কিংবা আইনি পথেও সমাধান হতে পারে। সে রাস্তা তাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে, এই দায়িত্ব গ্রাহকদের নয়, আমাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেয়াও চলবে না।

যে সব ব্যবসায়ী নিজের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটলে সরাসরি গ্রাহকদের জিম্মি করার কথা ভাবেন তাদের কাছে ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষিত থাকে না। বিশেষ করে ইন্টারনেটের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা খাত এমন লোকদের হাতে একেবারেই নিরাপদ নয়।

বর্তমানের এই কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেটের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে, বেচা-কেনা হচ্ছে, অনেক অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এমনকি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের ব্যবহার ইতিবাচক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গোটা দেশ যখন মহামারীর বিরুদ্ধে লড়ছে, সেখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট। এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতে দিনের সব থেকে ব্যস্ত সময়টায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হবে! এই সিদ্ধান্ত শুধু গ্রাহকদের সাথে নয়, সমগ্র জাতির সাথে এবং রাষ্ট্রের সাথেও বেঈমানির সমতুল্য। এই পরিস্থিতিতে একটি বিষয় ক্রমেই অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠছে, আর তা হলো ব্যবসায়ীদের হাতে ইন্টারনেট সেবা থাকলে গ্রাহকদের স্বার্থ তথা জাতীয় স্বার্থ ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ইন্টারনেট প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের জন্যই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এই মহামারীর সময়ে আমরা দেখেছি শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা ন্যায় বিচারের মতো অসংখ্য সেবা ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যাচ্ছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত, যেখানে সরাসরি জাতীয় স্বার্থ জড়িয়ে আছে সেটা কি চাইলেই বন্ধ রাখা যায়?

ইন্টারনেট তো মূলত সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, এখানে গ্রাহক পর্যায়ে সেবা পৌঁছানোর দায়িত্ব রয়েছে ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে। এইসব ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান নিয়েও গ্রাহক পর্যায়ে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ-অসন্তুষ্টি। স্থান ভেদে রয়েছে খরচের আকাশ-পাতাল ফারাক, প্রতিশ্রুত ইন্টারনেট গতিও অধিকাংশ সময় পাওয়া যায় না।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের প্রসারের আগে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার এই দায়িত্ব পালন করেছে টিএন্ডটি। কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছা থাকলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও গ্রাহক পর্যায়ে সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পৌঁছে দেয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে একদিকে যেমন কমে যাবে গ্রাহক ভোগান্তি আর ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ, তেমনি এরকম জিম্মি নাটকেরও মুখোমুখি হতে হবে না।

লেখক: তরুণ সাংবাদিক।

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

৩৮ বিসিএস : ননক্যাডারে নিয়োগ পাচ্ছেন আরও ৫৪১ জন

৩৮ বিসিএস : ননক্যাডারে নিয়োগ পাচ্ছেন আরও ৫৪১ জন

৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন পদে আরও

বিয়ের জন্য বাসায় ডেকে ছাত্রীকে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগ নেতা!

বিয়ের জন্য বাসায় ডেকে ছাত্রীকে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগ নেতা!

বিয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ) পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের

অর্থনীতি

আলুর দাম কেজিপ্রতি ৩৫, বেশি নিলেই ব্যবস্থা

আলুর দাম কেজিপ্রতি ৩৫, বেশি নিলেই ব্যবস্থা

বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবার সরকারই বাড়িয়ে দিল আলুর দাম। খুচরা পর্যায়ে কেজি প্রতি আলুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা। আগামীকাল বুধবার থেকে সরকার নির্ধারিত আলুর দাম বাস্তবায়ন হবে। সরকারি নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক

কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর অভিযান : নিহত ৪

কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর অভিযান : নিহত ৪

গত কয়েকদিন ধরেই কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চলছে। অভিযানকালে গত দু’দিনে ৪ কাশ্মিরি ভারতীয় সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

জাতীয়

এবার রাস্তা থেকে কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

এবার রাস্তা থেকে কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ

এবার রাস্তা থেকে কলেজছাত্রীকে তুলে নির্জন চরে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কাগুজিআটা গ্রামে এঘটনা ঘটেছে।

জাতীয়

বিভাগীয় শহরে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা : ২০০ নয়, ১০০ নম্বর

বিভাগীয় শহরে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা : ২০০ নয়, ১০০ নম্বর

অনলাইনে নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অনার্স প্রথমবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।শিক্ষার্থীদের রেজাল্টের পর ভর্তির তারিখ জানানো হবে। তবে, ডিসেম্বরের

জাতীয়

দশ বছরে ২ বস্তা ও ৪ বালতি কয়েন জমিয়ে বিপদে খাইরুল!

দশ বছরে ২ বস্তা ও ৪ বালতি কয়েন জমিয়ে বিপদে খাইরুল!

মাগুরার মহম্মদপুরের সবজি ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম খবির। দশ বছর ধরে তিনি ৬০ হাজার টাকার কয়েন জমিয়েছেন। সবজি ক্রেতা ও ভিক্ষুকদের কাছ থেকে পাওয়া ওই কয়েন জমিয়ে এখন ৪ বালতি ও দুই বস্তা হয়েছে। ওই কয়েনের ওজন প্রায় ছয় মণ। কয়েনের মধ্যে রয়েছে চার আনা, আট আনা, এক টাকা, দুই টাকার ধাতব মুদ্রা। এসব কয়েন নিয়ে এখন তিনি বিপাকে পড়েছেন। এত টাকা এখন কোন কাজে আসছে না ওই ব্যবসায়ীর। তার ওই কয়েন কেউ নিচ্ছে না।

লাইফস্টাইল

ডিজিটাল স্ক্রিনে কাজ করার ফলে ঘাড়ে ব্যথা হলে কি করবেন

ডিজিটাল স্ক্রিনে কাজ করার ফলে ঘাড়ে ব্যথা হলে কি করবেন

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করতে গিয়ে বা মোবাইল কিংবা ল্যাপটপে ভিডিও দেখতে দেখতে অনেকেই ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করেন। অনেকেই ঘাড় নাড়াতে চরম কষ্টে ভুগেন। এ সমস্যাকে সাধারণত ‘টেক নেক’ বলা হয়ে থাকে। বাংলায় যাকে বলে- ‘ঘাড়ে ব্যথা’।