© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভিকারুননিসার সামনে নারী খুন: ২৮ বছর পর সচল হচ্ছে মামলা

শেয়ার করুন:
ভিকারুননিসার সামনে নারী খুন: ২৮ বছর পর সচল হচ্ছে মামলা
own-reporter
০৪:৪১ পিএম | ২৬ জুন, ২০১৯

রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুলের সামনের ছিনতাইয়ের সময় এক নারী নিহতের ঘটনায় করা খুনের মামলার ওপর স্থগিতাদেশ ২৮ বছর পর তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলাটিতে অধিকতর তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে করা ২৮ বছর আগের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুলের সামনের ছিনতাইয়ের সময় এক নারী নিহতের ঘটনায় করা খুনের মামলার ওপর স্থগিতাদেশ ২৮ বছর পর তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট।

মামলাটিতে অধিকতর তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে করা ২৮ বছর আগের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ৯০ দিনের মধ্যে বিচারকার্যও সম্পন্ন করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

১৯৯১ সালে এ মামলার অধিকতর তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোতাহার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে  ২৫ জুলাই ভিকারুননিসা নুন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যান সগিরা মোর্শেদ সালাম নামে এক নারী। বিকাল ৫টায় সিদ্ধেশ্বরী রোডে পৌঁছা মাত্র মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা স্বর্ণের চুড়ি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় নিজেকে বাঁচাতে দৌঁড় দিলে গুলি করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় ওইদিনই রমনা থানায় মামলা করেন তার স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দুজনকে শনাক্ত করলেও অজ্ঞাতকারণে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণ নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

পরে ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দীক। সাক্ষ্য নেওয়া হয় সাতজনের।

সাক্ষ্যে বাদীপক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্তকালে আসামি মন্টু এবং তৎকালীন (১৯৮৯) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজা গ্রেপ্তার হন। কিন্তু মারুফ রেজার নাম বাদ দিয়েই অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজার রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলাটির অধিকতর তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

পরের বছর ২৭ অগাস্ট জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে বলে আরেকটি আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

এ মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নজরে আনলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর বিষয়টি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে তোলা হয়।

শুনানি করে আদালত বুধবার এ হত্যা মামলার বিচারকাজ স্থগিত করে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেয়।

 

টাইমস/এসআই

মন্তব্য করুন