• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

গণপূর্তের ৮০ ভাগ টেন্ডারে জি কে শামীমের থাবা  

গণপূর্তের ৮০ ভাগ টেন্ডারে জি কে শামীমের থাবা  

সেন্ট্রাল ডেস্ক২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৯পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

রাজধানীতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে সারাদেশে পরিচিতি পাওয়া যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ( জি কে শামীম) ছিলেন মূলত ‘টেন্ডার কিং’। বড় বড় টেন্ডার বাগাতে ‘টোপ’ ফেলতেন তিনি। যেখানে যে কৌশলে কাজ হবে সেটি তিনি সহজে বুঝতে পারতেন।

এক্ষেত্রে দামি উপঢৌকন,স্বর্ণালঙ্কার এমনকী অবস্থা বুঝে সুন্দরী মডেলদের ব্যবহার করতেন শামীম। মোটা অঙ্কের টাকায় ভাড়া করা এসব মডেলদের দিয়ে ম্যানেজ করা হতো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। এভাবে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর ৮০ ভাগ টেন্ডারেও ভাগ বসান।

জিয়া নামে এক ব্যাক্তির সঙ্গে শামীমের মুঠোফোনে কথা বলার ভয়েস রেকর্ড থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

ভয়েস রেকর্ড থেকে জানা যায়, জি কে শামীম প্রভাবশালী অনেকের সঙ্গেই অবৈধ কমিশন ও ঘুষ লেনদেনের আলাপ করেন নিজের মোবাইল ফোনে। তবে প্রমাণ রাখতে অনেকের সঙ্গেই কথাবার্তা বলার পর ফোনে তা রেকর্ড করে রাখতেন।

আবার অনেকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও ইমো ব্যবহার করে কথাবার্তা বললেও অন্য আরেকটি ফোনে তা রেকর্ড করে রাখেন। এ কারণে শামীমের মোবাইল ফোনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের ভয়েস চিহ্নিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, জিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক ভয়েস রেকর্ড রয়েছে তার মোবাইল ফোনে। এসব কথোপকথনের বেশির ভাগই চিত্রজগতের নায়িকা, উঠতি মডেল ও শোবিজ জগতের তারকাদের ঘিরে।

টেন্ডার সংক্রান্ত কাজে তিনি অনেক সময় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করতে এসব মডেল ও উঠতি নায়িকাদের ব্যবহার করতেন।

সূত্র বলছে, জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ত মন্ত্রণালয়ে দাপটের সঙ্গে ঘোরাফেরা করেন তার নাম জিয়া। অথচ তিনি পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। আবার তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতাও নন।

তবে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরে তার প্রভাব চোখে পড়ার মতো। সবাই তাকে দেখলে সালাম দেয়, সমীহ করে।লিফটম্যানরা তটস্থ হয়ে পড়ে। মন্ত্রীর কক্ষে ঢোকার আগেই দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকেন কর্মচারীরা।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে যে কয়জন সিঙ্গাপুরে মেরিনা বে ক্যাসিনোতে নিয়মিত জুয়া খেলতে যান জিয়া তাদের অন্যতম। সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোতে জিয়া হাজার হাজার ডলার উড়িয়ে দেন অবলীলায়। দেশের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করেন হেলিকপ্টারে।তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি।

জিয়া থাকেন রাজধানীর গুলশান-১ এ। গুলশান-২ এর হোটেল ওয়েস্টিনে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। এই জিয়ার রাজনৈতিক ‘হট কানেকশন’ সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। বিএনপি আমলে তিনি বিএনপির লোক।আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগ। টেন্ডার বাগিয়ে আনতে তাকে ব্যবহার করতেন জি কে শামীম।

এছাড়া টেন্ডার হলেই জি কে শামীমের কাছ থেকে যুবলীগের কমিশন হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকার ভাগ পেতেন যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরি সম্রাট।

গ্রেপ্তারের পর জি কে শামীমের অফিস কক্ষ থেকে উদ্ধারকৃত খাতাপত্র ও টেলিফোনের ভয়েস রেকর্ড থেকে কমিশনপ্রাপ্তদের নামের তালিকাসহ এসব তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব বলছে, জি কে শামীমের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী অনেকের হট কানেকশন ছিল। রাজনৈতিক পদ-পদবিধারী নেতা ছাড়াও ৫-৬ জন মন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট।

তার ৩টি মোবাইল ফোনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। কাজ পেতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পাশাপাশি সচিব থেকে শুরু করে প্রকৌশলীদের কাউকেই প্রাপ্য কমিশন থেকে বঞ্চিত করতেন না তিনি।

র‌্যাব আরও জানায়, জি কে শামীম অভিনব উপায়ে টেন্ডারবাজি করতেন। সম্প্রতি ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু হওয়ায় মূলত জি কে শামীমের মতো ঠিকাদারদের আরও সুবিধা হয়েছে।

কারণ আগে থেকেই দরপত্রে এমন শর্ত যোগ করা হয় যাতে পূর্বনির্ধারিত ঠিকাদার হিসেবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ে নীতিনির্ধারকরা নির্ধারিত রেটে কমিশন নিতেন।

দীর্ঘদিন ধরে এমন কমিশন লেনদেনের ফলে জি কে শামীম অনেক কর্মকর্তারই আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে পূর্ত সংক্রান্ত মেগা প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবিপিএল যুক্ত থাকে।

কোনোটি তিনি নিজেই করেন। আবার কোনো কোনো কাজ জেভি’র (যৌথ উদ্যোগ) মাধ্যমে করেন। আবার বেশ কিছু কাজ তিনি অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট কমিশনে বিক্রি করে দেন।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজ নিতে জি কের প্রতিষ্ঠানকে রীতিমতো মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে হয়।  এভাবে রূপপুরে কাজ পায় সাজিন ট্রেডার্স, এনডিই, পায়েল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স, জামাল অ্যান্ড সন্স ও হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স।

র‌্যাব জানায়, জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক বা অস্ত্রের যে কোনো একটি মামলা তদন্ত করবে র‌্যাব। তে করে আইনের ফাঁক গলে তার মুক্তি পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন মহলে তার হট কানেকশনের কথা শুনেছি। তবে আইনের চেয়ে কারও হাত লম্বা নয়। সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেপ্তার করা হয় শামীমকে। বর্তমানে তিনি দুটি মামলায় মোট ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন।

 

টাইমস/এমএস 

বাচ্চুর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত: অ্যাটর্নি জেনারেল

বাচ্চুর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত: অ্যাটর্নি জেনারেল

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই...

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জালিয়াতি করে গাড়ি নিবন্ধনের অভিযোগে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের...

সমাজটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছে: মেনন

সমাজটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছে: মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমাদের সমাজটা...

জাতীয়

পুলিশের ভুলের বলি বাবলু শেখ, ১৭ বছর আদালতে চক্কর

পুলিশের ভুলের বলি বাবলু শেখ, ১৭ বছর আদালতে চক্কর

২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামের কাজী আবদুল মালেকের সঙ্গে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি শ্রী বাবুকে গ্রেপ্তার না করে সিংড়া উপজেলার আঁচলকোট গ্রামের বাবলু শেখকে ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে নাটোর সদর আমলি আদালতে পাঠান। ভুলের বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে ছয় দিন পর ১৩ নভেম্বর আসামির আইনজীবী শ্রী বাবু পরিচয়েই বাবলু শেখের জামিন করান। পরে ওই পরিচয়েই বাবলু শেখের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। ওই দিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাবলু শেখ আপিল করেন। আদালত তাকে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন।

জাতীয়

চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ২

চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ২

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চৌমুহনীর শশী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক

সৌদিতে বাসে আগুন : ৩৫ ওমরাহযাত্রী নিহত

সৌদিতে বাসে আগুন : ৩৫ ওমরাহযাত্রী নিহত

সৌদি আরবে একটি বাসে আগুন লেগে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। দগ্ধ হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের সবাই ওমরাহযাত্রী বলে জানা গেছে। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা দিকে মদিনা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে আল-আখাল গ্রামের হিজরা রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জাতীয়

পরীক্ষার হলেই ২০ মাদ্রাসাছাত্রের চুল কাটলেন অধ্যক্ষ

পরীক্ষার হলেই ২০ মাদ্রাসাছাত্রের চুল কাটলেন অধ্যক্ষ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা চলাকালীন সময় ২০ ছাত্রের চুল কেটে দিয়েছেন অধ্যক্ষ। বুধবার মাদ্রাসাটির দাখিল শ্রেণির ছাত্রদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্ররা পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে যায়। পরে অন্য শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় তারা আবারও পরীক্ষা দেয়।

জাতীয়

পেঁয়াজ নিয়ে কালোবাজারি হলে কঠোর ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের ডিসি

পেঁয়াজ নিয়ে কালোবাজারি হলে কঠোর ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের ডিসি

পেঁয়াজ নিয়ে অদৃশ্য ব্যবসা করা যাবে না বলে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ  ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, অদৃশ্য ব্যবসা মানে কালোবাজারি। এটা হলে অবশ্যই অ্যাকশন নেয়া হবে। কমিশন এজেন্টদের দোকানে অবশ্যই আমদানিকারকের নাম, ফোন নম্বর ও রশিদ রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় আমদানিকারকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সাথে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সভায় পেঁয়াজের পাইকারি আড়তদার ও কমিশন এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য

রোগ-ব্যধির যম তুলসী

রোগ-ব্যধির যম তুলসী

তুলসী সবুজ রঙের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা, বীজ, ডালপালা সবই মানুষের উপকারে লাগে। শীতে সর্দি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বরজ্বর ভাব দূর করার জন্য তুলসী পাতার রস ভীষণ উপকারী। এমনকি এই রস দেহে ইনসুলিন উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে রক্তে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।