কর্মবিরতিতে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত, আন্দোলনকারীদের কাজে ফেরার নির্দেশ

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতিতে সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে– এ অভিযোগ তুলে আন্দোলন প্রত্যাহার করে অবিলম্বে কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে, তাই এমন সময় রোগীসেবা থমকে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মাদ মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রোগীসেবার স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের চলমান কর্মবিরতির কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি ও নিয়মিত সেবার গতি কমে গেছে। এরফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধসংশ্লিষ্ট সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের দাবি– দশম গ্রেড বাস্তবায়ন, ইতোমধ্যে অগ্রগতি পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মনোভাবও ইতিবাচক এবং তারা সক্রিয়ভাবে বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে দাবি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

আলোচনা ‘ফলপ্রসূভাবে’ এগোলেও পরে তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখায় মন্ত্রণালয় হতাশা প্রকাশ করে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইতিবাচক সমাধান প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আন্দোলনের যৌক্তিকতা আরও কমে যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলে তা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যায়। তাই কর্মবিরতি না তুলে সেবা বন্ধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সরকারের পক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

এমকে/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
শুধু পড়াশোনার চাপ নয়, শিশুদের আগ্রহের বিষয়টিতে উৎসাহ দেওয়া জরুরি: ইশরাক হোসেন Jan 20, 2026
img
মালয়েশিয়া ও ইতালি থেকে ফেরত এলো ৫৬০০ পোস্টাল ব্যালট Jan 20, 2026
img
নেপালের মাইনাস ৮ ডিগ্রিতে সুনেরাহ ও রেহানের শুটিং Jan 20, 2026
img
২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাচ্ছে ব্ল্যাকপিংকের নতুন অ্যালবাম ‘ডেডলাইন’ Jan 20, 2026
img
নেটফ্লিক্সে আলোচনার শীর্ষে ‘দ্য গ্রেট ফ্লাড’ Jan 20, 2026
img

চঞ্চল চৌধুরী

পরীকে আরো এক্সপ্লোর করা উচিত নির্মাতাদের Jan 20, 2026
img
৩০ বছরেই ৩০০ কোটির মালিক, কে এই তরুণ অভিনেতা? Jan 20, 2026
img
আইসিসি কোনো ডেডলাইন দেয়নি বিসিবিকে, দাবি আমজাদের Jan 20, 2026
img
শহীদ আসাদ দিবস আজ Jan 20, 2026
img
আলোচিত মডেল নিয়া নোয়ারে'র চাঞ্চল্যকর গোপন সত্য Jan 20, 2026
img
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ Jan 20, 2026
img
আমি বেঁচে থাকতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতে দেব না : শামা ওবায়েদ Jan 20, 2026
img
শহিদ আসাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের চিরন্তন অনুপ্রেরণা: মির্জা ফখরুল Jan 20, 2026
img
বলিউড ছেড়ে এখন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার মিনিশা লাম্বা Jan 20, 2026
img
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হর্ন বাজালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি Jan 20, 2026
img
তারেক রহমানের সঙ্গে ওলামা-মাশায়েখদের মতবিনিময় Jan 20, 2026
img
১৪ ঘণ্টা শুটিং সামলে কি করে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মধুমিতা? Jan 20, 2026
img
স্পেনে ২টি দ্রুতগামী ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ Jan 20, 2026
img
'গোল্ডেন টয়লেটে' সেলফি তুললেন অভিনেতা বিজয় ভার্মা Jan 20, 2026
img
সবাই আমাকে একটু বেশি শত্রু ভাবে: পরীমনি Jan 20, 2026