বছরের প্রথম দিনে রাজশাহীর স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে নতুন বই।
অনাড়ম্বরভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই তুলে দেন শিক্ষকরা। নতুন বই পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। যদিও সব শ্রেণির বই না পৌঁছায় অনেক শিক্ষার্থী নতুন বই না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান।
নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান হাসান বলেন, ‘নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে পারব।’
একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা নিশাত বলেন, ‘এবার উৎসব না হলেও বই পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।’
নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, ‘শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই না পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পাঠ্যবই হাতে থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাঠ অনুসরণ করতে পারে এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। ফলে সময়মতো পাঠ্যবই বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেছে। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জানুয়ারির মধ্যেই সব বই পাওয়া যাবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রাজশাহীর প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ৪১ হাজার ৬২৬টি ও প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই পৌঁছেছে। প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে চাহিদার শতভাগ বই পেয়েছেন তারা।
তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৫ টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বই পেয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৫টি বই। মাধ্যমিক পর্যায়ে বই পাওয়ার হার ৪১.৯০ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের ক্লাস সেভেন ও এইটের কোন বই এসে পৌঁছায় নি। ক্লাস নাইনের মাত্র ৬ টি করে বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে।’
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জায়েদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৫ কপি, যা মোট চাহিদার ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ। এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮০ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ কপি, অর্থাৎ ৬৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দাখিল ও ইবতেদায়ি পর্যায়ে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ১০১ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ১৭১ কপি, যা ৫৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।
জেলা শিক্ষা অফিসার আরও বলেন, যেসব বই পাওয়া গেছে, সেগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো এসে পৌঁছায়নি। অবশিষ্ট বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বই আসামাত্রই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হবে।
টিজে/টিএ