২০২৬ সাল দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসকারী নাগরিক ও বিদেশিদের জন্য নিয়ে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, শিশু পরিচর্যা সুবিধা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই আইন এবং বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রায় সব খাতেই কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম।
নতুন বছর মানে একটি দেশ সাজানোর নতুন আইন কিংবা নতুন পরিকল্পনা। ২০২৬ শুরু হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমজীবী মানুষের জন্য মজুরি বৃদ্ধির সুখবর খুব একটা স্বস্তি নিয়ে আসেনি।
সরকার এ বছর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে ঘণ্টাপ্রতি ১০ হাজার ৩২০ ওন। যা গেল বছরের তুলনায় মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
শ্রমিকদের মতে, জীবন যাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে এই বৃদ্ধির ব্যবধান অনেক বেশি। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য বিদেশি অদক্ষ কর্মী (ই-৯ ভিসা) নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ৮০ হাজার নির্ধারণ করেছে। যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশই কম। এই লক্ষ্যমাত্রা কমানোর মূল কারণ হিসেবে দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের পরিস্থিতিকে চিহ্নিত করছেন অনেকেই।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে কাঠামো আইন যা একটি যুগান্তকারী আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে এ আইন। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করার এবং এর জন্য জনগণের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করার একটি আইনি কাঠামো।
চলতি বছর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া স্কুলেগুলোতে চালু হচ্ছে স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ। আগামী মার্চ থেকে স্কুলে ক্লাস চলাকালীন স্মার্টফোনসহ সকল প্রকার ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে সম্পুর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
মাদক সেবন করে গাড়ি চালানোর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। ড্রাগ টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ মিলিয়ন ওন জরিমানা।
মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা এবং জরিমানা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ ওন করা হয়েছে।
শিশু পরিচর্যায় বাড়তি সুবিধা শিশু লালন-পালনের চাপ কমাতে সরকার বেশ কিছু নতুন সুবিধা চালু করেছে। মাসিক ১ লাখ ওন ভাতা থাকলেও আগে ছিল ৮ বছরের নিচে তা এখন বাড়িয়ে ৯ বছরের নিচে করা হয়েছে। এছাড়ও, থাকছে মাতৃত্বকালীন ছুটির সর্বোচ্চ ভাতা ২২ লাখ ওন, সঙ্গে ৩ মাস অতিরিক্ত ছুটি।
এমকে/টিএ