নতুন বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছিলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শাইনবাউম। ঠিক সেই মুহূর্তেই ৬ দশমিক ৫ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে মেক্সিকোর দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট শাইনবাউম যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, তখনই ভূকম্পন অনুভূত হয়। কম্পন শুরু হতেই কনফারেন্স রুমে উপস্থিত সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার খাতিরে প্রেসিডেন্টসহ সবাই দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবার পর প্রেসিডেন্ট পুনরায় সংবাদ সম্মেলনে ফিরে আসেন এবং দেশবাসীকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।
মেক্সিকোর ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সার্ভিস বলছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়েরেরো রাজ্যের পর্যটন শহর আকাপুলকোর কাছে। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৪২০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৭।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস, গ্যাস পাইপলাইন লিক এবং ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ পপাশের রাজ্যগুলোতেও সতর্কতা সংকেত বেজে উঠলে হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটির ইতিহাসে ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্প ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এছাড়া ২০১৭ সালে ৭ দশমিক ১ মাত্রার এক ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটিতে ভবন ধসে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শাইনবাউম নাগরিকদের সবসময় সতর্ক থাকার এবং জরুরি প্রয়োজনের জন্য ‘লাইফ ব্যাকপ্যাক’ (প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ব্যাগ) প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পিএ/টিএ