বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নিঃশর্ত জামিনসহ তিনটি দাবি ও তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের জামিন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং গতকাল ঘোষিত ২ দফা দাবি নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ও কার্যক্রম সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এরআগে শনিবার রাতে শাহবাগ মোড় অবস্থান কর্মসূচি থেকে দুই দফা দাবি ঘোষণা করে সংগঠনটি। দাবিগুলো ছিল : শনিবার রাতের মধ্যেই মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি ও হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সকল কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি।
রবিবার সন্ধ্যার সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশীদ বলেন, দুই দফার মাঝে শুধুমাত্র প্রথম দফা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। মাহদীকে কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি। একটি মামলায় কেবলমাত্র জামিন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমাদের প্রথম দফা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি।
সুতরাং আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের যে কর্মসূচি, সেটি চলমান থাকবে, সেটি থেমে থাকবে না। বর্তমানে আগের দুইটি দফার সাথে নতুন একটি দফা যুক্ত করে আমরা তিন দফা দিতে চাই।
সংগঠনটির ঘোষিত তিন নম্বর দাবি হল : জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে, তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনী সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষাণলে পরে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি বঞ্ছিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করা।
এসময় রিফাত রশীদ তিনটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশের যে যে থানার অধীনে ছাত্র জনতাকে শহীদ করা হয়েছে সেই সকল থানার ওসি এবং সেই জেলাগুলোর এসপি থেকে শুরু করে তদুর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করে তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা পূর্বক মামলার করবে সংগঠনটি। সেই সাথে ইনডেমিনিটি অর্ডিন্যান্স রাষ্ট্রপতি কতৃক জারি নিশ্চিতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। আর নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানের সাথে সাক্ষাৎপূর্বক তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারটি স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আমার প্রতিটি ভাই-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য অনেক সময় অনেক ধরনের পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড নিচ্ছে। তারা আওয়ামী পুনর্বাসনে ব্যস্ত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নাই, সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে কোনো ভোট নাই।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা হুঁশিয়ারি করে বলে দিতে চাই, তারা যদি সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন রাজপথে রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দিতে এখনো প্রস্তুত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা সারা বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম আবারও শুরু করেছি। সুতরাং এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ মূলতপাটন না করা পর্যন্ত এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলমান থাকবে।
পিএ/ এসএন