পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে যখন জবুথবু জনজীবন, তখন উষ্ণতার পরশ নিয়ে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এল খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি।
রবিবার বিকেল ৪টায় নিকুঞ্জ বটতলা এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা ডি এ তায়েব।
জনপ্রিয় অভিনেতা ডিএ তায়েব যখন এক বৃদ্ধার কাঁধে কম্বল তুলে দিচ্ছিলেন, তখন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "এই হাড়কাঁপানো শীতে আমরা যখন লেপ-তোশকের নিচে উষ্ণতা খুঁজি, তখন আমাদেরই পাশে কিছু মানুষ খোলা আকাশের নিচে বা পাতলা কাপড়ে রাত পার করছে। তাদের এই নিরব কান্না কি আমাদের কানে পৌঁছায় না?
মনে রাখবেন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো দয়া নয়, বরং এটি আমাদের মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার নৈতিক দায়বদ্ধতা।
আজ খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি যা করল, তা কেবল কম্বল বিতরণ নয়—এটি অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসার একটি স্মারক। সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি একটি করেও কম্বল নিয়ে এগিয়ে আসতেন, তবে এই বাংলায় কোনো মানুষ শীতে কষ্ট পেত না।"
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সোসাইটির আহ্বায়ক জাহিদ ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, 'মানুষ মানুষের জন্য'। আমাদের চারপাশের এই মানুষগুলো হয়তো অভাবের কারণে আজ হাত পেতেছেন, কিন্তু তাদের আত্মসম্মান আমাদের চেয়ে কম নয়। আমরা চাই না প্রচণ্ড শীতে কোনো মা তার সন্তানকে নিয়ে থরথর করে কাঁপুক। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস যদি একজনের গায়েও সামান্য উষ্ণতা জোগাতে পারে, তবেই আমাদের সংগঠনের জন্ম সার্থক।
খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি মানুষের বিপদের বন্ধু। আমাদের এই মানবিক যাত্রা থেমে থাকবে না; ভালোবাসা আর সেবার এই মশাল আমরা জ্বালিয়ে রাখবই।"
অনুষ্ঠানে শাহিনুর আলম মারফত, সৈকত সরকার, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম এবং মতিউর রহমান স্বপনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
তারা বলেন, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে পাড়া-মহল্লার প্রতিটি সংগঠনকে এভাবে জেগে উঠতে হবে। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিলেই কেবল সমাজ থেকে দুঃখ মুছে ফেলা সম্ভব।
এক টুকরো প্রশান্তি
অনুষ্ঠান শেষে দেখা যায় এক বৃদ্ধা তার নতুন কম্বলটি বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছেন। তার এই চোখের জল ছিল কৃতজ্ঞতার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতের এই কঠিন সময়ে এমন উপহার তাদের কাছে আশীর্বাদের মতো।
টিএ/