মানিকগঞ্জে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আতাউর রহমান আতাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অনুসারী ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা যাচাই-বাছাই শেষে আতাউর রহমান আতার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সময়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খান রিতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
আতাউর রহমান আতা তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং আফরোজা খান রিতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও মামলার প্রমাণপত্র উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে থামিয়ে দেন বলে জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে আতাউর রহমান আতা গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমি ন্যায়বিচারের জন্য তথ্য প্রমাণ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। উল্টো সম্মেলন কক্ষের বাইরে পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছি এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।'
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় আতাউর রহমান তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের একটি নম্বর চাইলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন যাদু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট লিটন এবং শিবালয় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানাসহ বেশ কয়েকজন তাকে ধাক্কা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।