যশোর-১ (শার্শা) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন বলেছেন, ১৯৮২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১০ বার গ্রেফতার হয়েছেন। তবুও তিনি দেশের স্বার্থে কোনো আপস করেননি। তার এই দেশপ্রেমের কারণেই বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষ তাকে হাজার বছর মনে রাখবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল স্থলবন্দর প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক শোক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১ সংগঠন এ শোক সভার আয়োজন করে।
বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুজ্জামান লিটন খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন।
লিটন বলেন, ‘দীর্ঘ ৫ বছরের বন্দী জীবনে প্রায় ৩ বছর চার দেয়ালের মাঝে কয়েদি জীবন কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া। তৎকালীন সরকার তাকে দুর্বল করতে ও মানসিক যন্ত্রণা দিতে তার সন্তানকে নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। আরেক সন্তান তারেক রহমানকে দেশছাড়া করেছে। এত কিছুর পরেও তিনি দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো আপস করেননি। এমনকি সুস্থ থাকতে চিকিৎসা সেবা নিতেও দেশ ছাড়েননি। আজ তিনি নেই, কিন্তু তার ত্যাগ ও সৃষ্টির অনন্য ইতিহাসে তিনি মানুষের মাঝে হাজার বছর বেঁচে থাকবেন।’
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮০-এর দশকে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। তার আমলেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধি পায় এবং নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় তাকে ২৯ নম্বরে স্থান দেয়া হয়েছিল।’
নুরুজ্জামান লিটন বলেন, ‘খালেদা জিয়া ৫টি জাতীয় নির্বাচনে ২৩টি আসনে নির্বাচন করে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার যখন কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে, তখন তিনি গণতন্ত্রের জন্য নতুন করে লড়াই শুরু করেন। এ জন্য তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং দুইবার গৃহবন্দী করা হয়।
গণতন্ত্রের প্রতি তার ভূমিকার জন্য ২০১১ সালে নিউ জার্সির স্টেট সিনেট তাকে ‘গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা’ উপাধিতে সম্মানিত করে। তার জানাজায় প্রায় কোটি মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ দিয়েছে তিনি এদেশের আপামর মানুষের কতটা আপন ছিলেন।’
দোয়া ও শোক সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহর উল্লাহ মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ আক্তারুজ্জামান আক্তার, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মিলন, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহেব আলী মাষ্টার, বেনাপোল পৌর কৃষকদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জামা হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন, বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, পরিবহন বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এসএস/টিএ