© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নোয়াখালীতে প্রচণ্ড শীতে ভোগান্তিতে উপকূলীয় জনজীবন

শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে প্রচণ্ড শীতে ভোগান্তিতে উপকূলীয় জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১৭ এএম | ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬
নোয়াখালীর জনজীবন বর্তমানে প্রচণ্ড শীতের দাপটে বিপর্যস্ত। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না, ঘন কুয়াশা ও তীব্র হিমেল বাতাসে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের সঙ্গে কর্মহীনতার প্রকোপ যুক্ত হওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে নোয়াখালীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে, যা এই মৌসুমের রেকর্ড। তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারপাশ। সূর্যের আলো না পাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। রিকশাচালক, দিনমজুর, জেলে ও কৃষিশ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে উপকূলীয় চর ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা যথেষ্ট পৌঁছায় না। শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা কাঁপছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরবালুয়া গ্রামের মোহাম্মদ নুরুউদ্দিন বলেন, “প্রচণ্ড শীতে আমাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপে থাকায় কেউ আমাদের দিকে তাকায় না। কাজ না থাকায় খাবার জোটানোই দায়। অনেকেই শীতের কাপড় না থাকায় রাতে ঘুমাতে পারেন না।”

হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন ও অন্যান্য বিচ্ছিন্ন দ্বীপেও একই চিত্র। মিজানুর রহমান জানান, “নদীতে মাছ নেই, উপরে কাজ নেই। চারদিকে শুধু শীত। ঘরে খাবার নেই, গায়ে দেওয়ার কাপড় নেই। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলে না।”

জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত তিন দিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র।”

জেলা প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “চাহিদার তুলনায় আরও বেশি শীতবস্ত্র প্রয়োজন। সমাজের স্বচ্ছল ও বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে শীতে কষ্ট করা মানুষের উপকার হবে।”

সচেতন মহলও সরকারের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। শীতের এই দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

এমকে/এসএন

মন্তব্য করুন