গত ডিসেম্বরের মত চলতি জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ১৫ ব্যাংক থেকে ২০৬ মিলিয়ন বা ২০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৩৭৫ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার (৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এ মাসে অর্থাৎ ১ থেকে ৭ জানুয়ারি সময়ে দেশে ৯০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৭১৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৪৩২ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তিতে আছে।
২০২৫ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি শক্তিশালী অবস্থায় ছিল। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩২৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। একক মাস হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।
এবি/টিকে