কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সীমান্তে কোকেন পাচারে জড়িত গেরিলাদের বিরুদ্ধে ‘যৌথ পদক্ষেপ’ নিতে সম্মত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার বোগোতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।
দুই নেতা বুধবার তাদের প্রথম ফোনালাপ করেন। এর মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হয়, কারণ এর আগে ভেনেজুয়েলার বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্দো বেনেদেত্তি ব্লু রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প ও পেত্রো কলম্বিয়ার শেষ বড় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (ইএলএন) বিরুদ্ধে ‘যৌথ পদক্ষেপ’ নিতে অঙ্গীকার করেছেন।
কলম্বিয়ার অভিযোগ, ইএলএন কলম্বীয় সেনাদের ওপর হামলা ও অপহরণ চালিয়ে পরে ভেনেজুয়েলায় তাদের পেছনের ঘাঁটিতে সরে যায়।
বেনেদেত্তি বলেন, পেত্রো ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলা সীমান্তে ইএলএনের বিরুদ্ধে ‘কঠোর আঘাত হানতে সহায়তা’ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গেরিলাদের ‘পেছনের ঘাঁটি’ এবং কলম্বিয়ার ভূখণ্ড—উভয় স্থানেই আক্রমণ করতে হবে।
কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দুই হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ছিদ্রপূর্ণ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে মাদক পাচার, অবৈধ খনন ও চোরাচালান থেকে লাভের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত।
২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর পেত্রো ইএলএনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা পরে অচল হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তীব্র বাক্যবিনিময়ের পরও পেত্রো ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের জন্য ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। ওই সময় ট্রাম্প পেত্রোকে মাদক পাচারকারী বলে আখ্যা দেন, আর কলম্বিয়ার নেতা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার অঙ্গীকার করেন।
৩ জানুয়ারি কারাকাসে মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করার পর ট্রাম্প পেত্রোকে বলেন, ‘নিজের ব্যাপারে সতর্ক থাকো।’
দশকের পর দশক ধরে ওয়াশিংটন ও বোগোতার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকলেও, গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
পিএ/টিএ