ভেনেজুয়েলার বিরোধীয় দলীয় নেত্রী শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর সঙ্গে আগামী সপ্তাহে সাক্ষাৎ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মাচাদো যদি নোবেল পুরস্কার দান করতে চান, তাহলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করবেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকি-ধামকির পর গত শনিবার ((৩ জানুয়ারি) লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোQগে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির পর মাচাদো ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নেতা হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু মাচাদোর জায়গায় মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার পবরর্তী নেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, রদ্রিগেজ যতক্ষণ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে তার দেশের তেলের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দেশ শাসন করতে দেবেন।
এমন অবস্থায় মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাতের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজের শন হ্যানিটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জানি আগামী সপ্তাহের কোনো এক সময় তিনি আসছেন। আমি তাকে শুভেচ্ছা জানানোর অপেক্ষায় আছি।’
সাক্ষাৎকারে মাচাদোর নোবেল পুরস্কার নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি, মাচাদো আমাকে পুরস্কারটি দিতে চান। তিনি যদি এটা আমাকে দিতে চান, আমি তা গ্রহণ করব। এটি হবে একটি বিরাট সম্মানের বিষয়।’ তবে মাচাদোর সঙ্গে ট্রাম্পের এই সাক্ষাতের ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস।
মাচাদো বহু আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারকে উৎখাতের কথা বলে আসছেন। এমনকি এজন্য তিনি প্রকাশ্যেই মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বানও জানান। গত বছর তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান ও মাদুরোর অপহরণের পর ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান মাচাদো। তিনি বলেন, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। ভেনেজুয়েলায় নেয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি ‘বিশ্বকে তা প্রমাণ করেছেন’ এবং এটি ‘মানবতার জন্য বিশাল পদক্ষেপ’। ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পুরষ্কার দিয়ে দেয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
এবি/টিকে