ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা যে কমিটমেন্টগুলো দিয়েছিলাম, তার প্রতিটিই বাস্তবায়ন করব। প্রতিশ্রুতির চেয়েও পাঁচগুণ বেশি কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে ডাকসু ও আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এমওইউ সাইনিং ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স আজ ১০৪ বছর এবং স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও এখনো এখানে বড় ধরনের বৈষম্য রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী হলেও তাদের জন্য মাত্র পাঁচটি হল রয়েছে। এটি অর্থের অভাব নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতির ফল। বিগত শাসনামলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা হয়েছে।
আবাসন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেভাবেই হোক, প্রয়োজন হলে চাপ প্রয়োগ করে হলেও আমরা ক্যাম্পাসের আবাসন সংকট দূর করব। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে যখন হলে সিট না পেয়ে প্রতিদিন যে দুর্ভোগের শিকার হয়, সেই চিত্র আমরা আর দেখতে চাই না। একইভাবে অনেক ছেলে শিক্ষার্থী বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও হলে সিট না পেয়ে হতাশ হয়। এই বাস্তবতা আমরা বদলাতে চাই।
তিনি জানান, এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই পাঁচটি নতুন হল নির্মাণকাজ শুরু হবে। এর মধ্যে চীনের অর্থায়নে একটি নারী হলের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বাকি হলগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজও দ্রুত শুরু হবে। প্রায় ২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।
নারী অধিকার প্রসঙ্গে ভিপি বলেন, আমরা দেশে মানবাধিকার ও সমতার কথা বলি, কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় তা লঙ্ঘিত হয়। এই বৈষম্য আর চলবে না। নারী ও পুরুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের বোনদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করব।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ডোনারের সহায়তায় এর সংস্কারকাজ শুরু করেছি, যার প্রায় ৮০ শতাংশ এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এটি আপাতত জরুরি সংস্কার হলেও ভবিষ্যতে মসজিদটিকে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স সেন্টারে রূপান্তর করা হবে, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক জায়গা বরাদ্দ থাকবে।
আইকে/টিএ