দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও চাহিদা না দেওয়া কিংবা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
এনটিআরসিএ জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শূন্যপদ পূরণে এনটিআরসিএতে ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে চাহিদা প্রদান বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শূন্যপদ থাকলে অবশ্যই চাহিদা দিতে হবে। ওই চাহিদার ভিত্তিতেই এনটিআরসিএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫-এর ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এনটিআরসিএ কর্তৃক নিবন্ধিত ও প্রত্যয়নকৃত না হলে কোনো ব্যক্তি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালাতেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রদর্শকদের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনটিআরসিএর নিবন্ধনধারী ও সুপারিশপ্রাপ্ত হতে হবে।
এনটিআরসিএ সতর্ক করে বলেছে, আইন, নীতিমালা ও সরকারি পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি শূন্যপদের চাহিদা না দেন অথবা বে-আইনিভাবে নিবন্ধনবিহীন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদের খবর প্রকাশিত হওয়ায় জাল সনদ শনাক্তেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এনটিআরসিএ। সেজন্য সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধানসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য, এমপিওভুক্ত শূন্যপদের তথ্য, নভেম্বর ২০২৫ মাসের এমপিও শিট এবং নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সত্যায়িত নিবন্ধন সনদের কপি নির্ধারিত ছক অনুযায়ী পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনটিআরসিএ জানায়, এই চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে এসব তথ্য ও কাগজপত্র ডাকযোগে, কুরিয়ার বা বাহকের মাধ্যমে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। তবে এসব তথ্য গোপন, সনদপত্র টেম্পারিং বা তথ্য না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি, এনটিআরসিএর পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ এবং সদস্য (যুগ্মসচিব) মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর সই করা দুটি পৃথক চিঠিতে বিষয় দুটি জানানো হয়েছে।
এসকে/টিকে