© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন

শেয়ার করুন:
ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩১ এএম | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ঘুষ ছাড়া বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি।

সরেজমিন ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অফিস ব্যয়, বিদ্যালয় সংক্রান্ত অন্যান্য বিল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। বিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইলে মৌখিকভাবে অর্থ প্রদানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয় সংস্কার বরাদ্দের বিল তুলতে গেলে তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে হয় । শিক্ষকদের অবসরভাতা উত্তোলন করতেও ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি। বিল জমা দেওয়ার পর বারবার ঘোরানো হয়। সরাসরি কিছু না বললেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়, টাকা না দিলে স্বাক্ষর পাওয়া যাবে না।

আরও জানা যায়, সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবুল হোসেন অবসরে যাওয়ার পর অসুস্থতা জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার অবসর ভাতা উত্তোলন করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন নাসরিন সুলতানা।

বাবুল হোসেনের স্ত্রী সোহনেয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করে অবসর নিয়েছেন। পরে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। মারা যাওয়ার পরে আমরা সমস্যায় পড়ি, তখন তার অবসর ভাতা তুলতে গেলে শিক্ষা অফিসের নাসরিন আমার ফাইল পার করায় না। দিনের পর দিন ফাইল আটকে রেখে আমাদের ঘোরায়।

পরে তিনি প্রস্তাব দেয় তাকে এক লাখ টাকা দিলে সে ফাইল পার করিয়ে দেবেন। পরে আমি মানুষের কাছে সুদের ওপর টাকা নিয়ে তাকে সেই টাকা দেই। তখন সে সাক্ষর করে ফাইলটা পার করেছে।

মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি ২০২২ সালে চাকরি জীবন শেষ করে অবসরে যাই।ভেবেছিলাম চাকরি থেকে অবসর যাওয়ার পরে ভালোভাবে অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারব। তবে সব কাগজপত্র ঠিক করে অফিসে নিয়ে গেলে হিসাব সহকারী সেটিতে সাক্ষর না করে দীর্ঘদিন ঘোরায়। পরে সে এক মাধ্যমে আমার কাছে ঘুষ দাবি করে। সেটি দেওয়ার পর আমার অবসর ভাতা তুলতে পেরেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষা অফিসে বিল সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে ঘুষ ছাড়া কোনোভাবে কাজ হয় না। সেখানে হিসাব সহকারীকে খুশি করাতে হয়।

আমাদের যে ছোট বরাদ্দ আসে সেগুলোর কাজ করব নাকি সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে ঘুষ দেব। এ বিষয়ে কথা বললে বরাদ্দ পাব না কিংবা সমস্যা হবে এজন্য এসব বিষয় কথা বলি না।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানা বলেন, এসব বিষয় নিউজ করিয়েন না ভাই। সামনে আসেন আপনার সঙ্গে কথা বলছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি খুবই খারাপ লাগার। শিক্ষকদের কাজের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এটা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন