স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে রিয়াল মাদ্রিদের হারের পর মাঠেই কোচ ও খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব লক্ষ করা গেছে। বার্সাকে কিলিয়ান এমবাপে গার্ড অব অনার না দিতে সতীর্থদেরকে তাগাদা দেন। কোচ জাবি আলোনসো বারণ করলেও তা কানে নেননি খেলোয়াড়রা। মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। খেলোয়াড়দের ওপর যে কোচের নিয়ন্ত্রণ নেই, তা স্পষ্ট। গত অক্টোবরে এল ক্লাসিকোতে বদলি হয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঠ ছাড়ার পর কোচের সঙ্গে বিতর্কিত আচরণ তো চর্চিত ছিল। কোচের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের বনিবনা না হওয়া থেকেই যেন জাবির বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছিল, যা চূড়ান্ত হলো বার্সার কাছে রোববারের হারে।
এমবাপে পুরস্কার বিতরণীর সময় মাঠে জাবিকে পাত্তা না দিলেও দলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। সাড়ে সাত মাসে চাকরি হারানো কোচকে বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, ‘সময় খুব অল্প। কিন্তু আপনার জন্য খেলা ও আপনার কাছ থেকে শেখা ছিল আনন্দের। প্রথম দিন থেকে আমাকে আত্মবিশ্বাস দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি আপনাকে স্মরণ করব এমন একজন কোচ হিসেবে যার ছিল সুস্পষ্ট ধারণা ও ফুটবল সম্পর্কে অনেক কিছু যিনি জানেন। আপনার পরের অধ্যায়ের জন্য শুভ কামনা।’
এমবাপে এই পোস্ট দিলেও ভিনিসিয়ুস ছিলেন নীরব। গত অক্টোবরে বার্সার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে বদলি হয়ে বিতর্কিত আচরণের কারণে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চাইলেও জাবির কাছে চাননি। তার কাছ থেকে পোস্ট আশা করাও বাড়াবাড়ি। জানা গেছে, রিয়ালের সাবেক তারকা মাদ্রিদের ডাগআউটে আসার পর থেকে সুখ হারাম হয়ে গিয়েছিল ভিনিসিয়ুসের, একই অবস্থা ছিল ফেদেরিকো ভালভার্দে ও জুড বেলিংহামের। তাদের সুখী জীবন বিষিয়ে তুলেছিলেন, এমনটাই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক।
জাবির অধীনে লস ব্লাঙ্কোরা শুরুর ২০ ম্যাচে ১৭ জয় পেয়েছিল। কিন্তু দলের সাম্প্রতিক ফল গেছে তার বিরুদ্ধে। দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে- স্প্যানিশ কোচের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছিল গত অক্টোবরে। মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ দেখা যায় তাকে। জাবির সঙ্গে হাতও মেলাননি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের এমন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়নি মাদ্রিদ ক্লাব। তখনই জাবি বুঝে গিয়েছিলেন, তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং ম্যানেজমেন্টের কাছে উপেক্ষিত একজন।
একই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাবির ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি ও ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভুগছিলেন ভালভার্দে ও বেলিংহাম। ২০২৩-২৪ মৌসুমে মাদ্রিদে প্রথম বছরে দারুণ সময় কাটান বেলিংহাম। গত মৌসুমেও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এবার সেরা ফর্ম খুঁজে পেতে ঘাম ছুটেছে। কার্লো আনচেলত্তির সময়ে যেভাবে মাঝমাঠে সাবলীল ছিলেন, সেটা আর থাকতে পারছেন না। অন্যদিকে ভালভার্দে মাঝমাঠে স্বাচ্ছন্দবোধ করলেও জাবি তাকে বিভিন্ন পজিশনে পরীক্ষা করেছেন, যা তার পারফরম্যান্সকে গুটিয়ে ফেলেছিল। জাবির বিদায়ে এই তিন খেলোয়াড় হয়তো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন এবার।
আরআই/টিকে