© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য ছয়টি পথ

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য ছয়টি পথ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২৫ এএম | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ওমান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে রয়েছে তাদের ঘাঁটি ও স্থাপনা। এই উপস্থিতি অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত বিনিয়োগকে তুলে ধরলেও, একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে পাল্টা হামলার ঝুঁকিতেও ফেলেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য ছয়টি সামরিক বিকল্প

ট্রাম্প যদি সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরান আক্রমণের একাধিক পথ খোলা থাকবে—

১) আকাশপথে হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হতে পারে।

২) নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার বা সাবমেরিন থেকে ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হতে পারে।

৩) ড্রোন যুদ্ধ: সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করা হতে পারে, বিশেষ করে রেভল্যুশনারি গার্ডের স্থাপনা বা বিক্ষোভ দমনে জড়িত ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে।

৪) সাইবার যুদ্ধ: ইরানের কমান্ড সিস্টেম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থা অচল করতে সাইবার অভিযান চালানো হতে পারে।

৫) গোপন বিশেষ বাহিনী অভিযান: পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনায় নাশকতা চালাতে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।

৬) লক্ষ্যভিত্তিক অবকাঠামো হামলা: দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা হতে পারে, যাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিকল্পের যেকোনোটি প্রয়োগ করলে তা শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। তাদের মতে, বাইরের আক্রমণ ইরানি নেতৃত্বকে জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেওয়ার সুযোগ দেবে, বিক্ষোভ আন্দোলনের বৈধতা দুর্বল করবে এবং শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে অভ্যন্তরীণ সমর্থন সংহত করতে সহায়ক হবে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের কথা তুলেছেন। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কর্তৃত্বও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।



ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন