অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিশ্বের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার মাত্র এক মাস পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। এটি একটি সংকেত যে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত দ্রুত এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
ই-সেফটি কমিশনার জানিয়েছেন, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া আইনের পরিপালন নিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মগুলো এখন পর্যন্ত ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলেছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আজ আমরা ঘোষণা করতে পারি যে, এটি কাজ করছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য গর্বের একটি উৎস। এটি ছিল বিশ্ব-নেতৃত্বদানকারী একটি আইন, যা এখন বিশ্বজুড়ে অনুসরণ করা হচ্ছে।'
এই নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফ্রান্স, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া- সব দেশই জানিয়েছে যে তারা অনুরূপ আইন প্রবর্তন করবে। পাশাপাশি কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোও অস্ট্রেলিয়াকে অনুসরণ করার বিষয়ে আলোচনা করছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো আইন পরিপালনের বিষয়ে প্রথম সরকারি তথ্য এবং এটি ইঙ্গিত দেয় যে, প্ল্যাটফর্মগুলো আইনটি মেনে চলতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, আইন অমান্য করলে কোম্পানিগুলোকে চার কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, তবে এতে শিশু বা তাদের অভিভাবকদের দায়ী করা হবে না।
এই মোট হিসাবটি আইন প্রণয়নের আগে প্রচারিত অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি এবং জনসংখ্যার উপাত্ত অনুযায়ী এটি ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রত্যেক অস্ট্রেলীয়র বিপরীতে গড়ে দুটিরও বেশি অ্যাকাউন্টের সমান। মেটা এর আগে জানিয়েছিল, তারা তাদের ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং থ্রেডস থেকে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলেছে।
ন্যূনতম বয়সের এই নিয়মটি গুগলের ইউটিউব, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইলন মাস্কের এক্স (সাবেক টুইটার)-এর জন্যও প্রযোজ্য। রেডিট জানিয়েছে, তারা এটি মেনে চলছে, তবে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের আবেদন জানিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সরকার জানিয়েছে যে তারা (আদালতে) নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে।
এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচকরা বলছেন যে এটি কার্যকর করা কঠিন হবে। ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, কিছু অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট এখনও সচল রয়েছে এবং পুরোপুরি আইন মেনে চলা হয়েছে এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় এখনও আসেনি।
জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, 'আমরা আশা করি না যে নিরাপত্তা আইন প্রতিটি লঙ্ঘন পুরোপুরি নির্মূল করে দেবে। যদি আমরা তাই ভাবতাম, তবে গতিসীমা নির্ধারণ ব্যর্থ হতো কারণ মানুষ এখনও দ্রুত গাড়ি চালায়; মদ্যপানের সীমাও ব্যর্থ হতো কারণ বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, কিছু শিশু ঠিকই অ্যালকোহল পেয়ে যায়।'
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রাথমিক সব কোম্পানিই জানিয়েছে যে তারা এটি মেনে চলবে।
ডিসেম্বরের আইন চালুর প্রাক্কালে অস্ট্রেলিয়ায় কিছু ছোট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের ডাউনলোড হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল। ই-সেফটি অফিস জানিয়েছে যে তারা একে 'ব্যবহারকারী স্থানান্তরের প্রবণতা' হিসেবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে তারা আরও বলছে, প্রাথমিক ডাউনলোডের সেই ঊর্ধ্বগতি টেকসই ব্যবহারে রূপান্তরিত হয়নি।
এদিকে, এই নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে কয়েক বছরব্যাপী একটি গবেষণা চালানো হবে।
এসকে/টিকে