ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারই এক সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির গ্রক এআই টুল তার অনুমতি ছাড়াই তাকে নিয়ে অশ্লীল ও অপমানজনক ডিপফেক ছবি তৈরি করেছে- যার মধ্যে একটিতে তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেও দেখানো হয়েছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, গ্রক এসব ছবি তৈরি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর করেনি। ক্ষতিপূরণ ও দণ্ডমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করে তিনি জানান, গ্রকের মাধ্যমে তার নামে ডজনেরও বেশি যৌন হয়রানিমূলক ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নারী ও শিশুদের যৌনায়িত ছবি তৈরিতে টুলটির অপব্যবহার নিয়ে টানা দুই সপ্তাহের জনসমালোচনার পর এক্সএআই বুধবার জানায়, যেসব দেশে এটি অবৈধ, সেখানে গ্রক ও এক্স প্ল্যাটফর্মে 'বাস্তব ব্যক্তিদের বিকিনি, অন্তর্বাস বা অনুরূপ পোশাকে ছবি তৈরির সক্ষমতা' জিওব্লক করা হবে।
২৭ বছর বয়সী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার মাস্কের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি একজন ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার, লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। ২০২৪ সালে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
সেন্ট ক্লেয়ারের পক্ষে লড়ছেন ভুক্তভোগীদের অধিকারবিষয়ক আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ। তিনি বলেন, 'এক্সএআই একটি যুক্তিসঙ্গতভাবে নিরাপদ পণ্য নয় এবং এটি জনস্বার্থে ক্ষতিকর। গ্রক সম্মতিহীন, নির্যাতনমূলক ও অবমাননাকর ছবি তৈরি ও এক্সে প্রকাশ করে অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারকে হয়রানি করেছে।' তার ভাষায়, 'এই ক্ষতি ইচ্ছাকৃত নকশাগত সিদ্ধান্তের ফল- যা গ্রককে সহজেই হয়রানি ও অপমানের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।'
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিটি তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ করেছে- তার এক্স অ্যাকাউন্টের আয়ের সুযোগ বন্ধ করেছে এবং তাকে নিয়ে আরও বেশি ছবি তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যৌন ভঙ্গিতে দেখানো, আংশিক নগ্নতা এবং শিশুকালীন অবৈধ ছবি। নথিতে বলা হয়, গ্রকের তৈরি ছবির একটি তাকে ১৪ বছর বয়সী হিসেবে স্ট্রিং বিকিনিতে দেখায়। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে নিয়ে 'ফ্লস দিয়ে বানানো বিকিনি পরাও'—এমন অনুরোধেও গ্রক সাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ।
মামলার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ছবি কার্যত সম্মতিহীন। আরও বলা হয়, সেন্ট ক্লেয়ার অপসারণের অনুরোধ করায় গ্রক ও এক্সএআইয়ের কাছে তার অসম্মতির বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। গ্রক নাকি তার শরীরে ট্যাটু যোগ করেছে- যার মধ্যে 'ইলন'স হোর' লেখা ছিল।
ইহুদি ধর্মাবলম্বী সেন্ট ক্লেয়ার আরও অভিযোগ করেছেন, এক ছবিতে তাকে স্বস্তিকা চিহ্নযুক্ত বিকিনি পরানো হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক- উভয় অবস্থায় তাকে দেখিয়ে সম্মতিহীন, বাস্তবসম্মত যৌন ডিপফেক তৈরি ও ছড়ানোর মাধ্যমে এক্স আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রকের তৈরি ছবির জন্য এক্সএআই সরাসরি দায়ী।
ইলন মাস্ক এক্সে বলেছেন, ব্যবহারকারীরাই তাদের তৈরি ছবির জন্য দায়ী। তিনি সম্প্রতি লিখেছেন, 'গ্রক ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলে, সেটি আপলোড করার মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে।' তার দাবি, 'গ্রক নিজে থেকে ছবি তৈরি করে না; ব্যবহারকারীর অনুরোধেই তা করে।'
এক্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, 'শিশু যৌন শোষণ, সম্মতিহীন নগ্নতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে।' একই সঙ্গে কোম্পানিটি পাল্টা মামলা করেছে- তাদের শর্ত অনুযায়ী, সেন্ট ক্লেয়ার নিউইয়র্কে নয়, টেক্সাসে মামলা করতে বাধ্য।
এর আগে গার্ডিয়ানকে সেন্ট ক্লেয়ার বলেছিলেন, তিনি 'ভীত ও লঙ্ঘিত' বোধ করেছেন। তার ভাষায়, 'এটি হয়রানির আরেকটি হাতিয়ার। এখানে মূল বিষয় হলো সম্মতি।' তিনি জানান, মাস্ক 'শিশুদের একটি "লেজিয়ন" গড়তে চান'- এমন কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই তার সমর্থকদের একটি অংশ তাকে অপছন্দ করে। মাস্কের আরও তিন নারীর সঙ্গে ১৩টি সন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এসকে/টিকে