উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও প্রবীণ রাজনীতিক ইয়াওয়েরি মুসোভেনি। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি টানা প্রায় পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার নজির গড়লেন।
৮১ বছর বয়সী মুসোভেনির এই বিজয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এই নেতার জন্য এবারের সাধারণ নির্বাচনকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, যা তিনি সফলভাবেই অতিক্রম করেছেন।
উগান্ডার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মুসোভেনি পেয়েছেন প্রায় ৭২ শতাংশ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিতে আসা ববি ওয়াইন পেয়েছেন ২৪ শতাংশ ভোট।
তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন ববি ওয়াইন। ভোটের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়, যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ‘ভুয়া তথ্য’ ছড়ানো ঠেকাতেই ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এদিকে শনিবার সকালে ববি ওয়াইনকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলে তার দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম (এনইউপি)। দলটির দাবি, ববিকে কোথায় নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
তবে পরে নিজেই এসব অভিযোগ নাকচ করেন ববি ওয়াইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি জানান, রাতে তার বাড়িতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা অকার্যকর করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ওই অভিযানের সময় তিনি সেনা ও পুলিশের হাত এড়িয়ে পালাতে সক্ষম হন এবং বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন না।
এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার উগান্ডায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। নির্বাচনি প্রচারে ববি ওয়াইন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মুসোভেনির বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারকালজুড়ে বিরোধী দলগুলোর ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ভোটগ্রহণের পরপরই ববি ওয়াইন অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারের সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে।
ইউটি/টিএ