জুলাই-আগস্টের প্রত্যেক শহীদের নিজস্ব গল্প ও মহাকাব্যিক উপাখ্যান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত দিন। এই দুদিনে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হটস্পট ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা। এখানে ৯ জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন অসংখ্য মানুষ। আত্মত্যাগকারী ৯ শহীদ হলেন ফারহান ফাইয়াজ, মাহমুদুর রহমান সৈকত, রাজু আহমেদ, মাহিন, মোহাম্মদ রনি, আল শাহরিয়ার রোকন, ইসমাইল হোসেন, জসিম উদ্দীন ও জুবাইদ হোসেন ইমন।
তিনি বলেন, এসব শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ। আমাদের অঙ্গীকার ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যারা রাজপথে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে, যারা পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা বা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আমরা বিচারের মুখোমুখি করবো। সেই অঙ্গীকারের ফলশ্রুতিতে আমাদের তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। এসব অপরাধীর ব্যাপারে তারা তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করেছেন। আগামী ২৯ জানুয়ারির পর পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।
শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকত প্রসঙ্গে তাজুল বলেন, খুবই প্রাণবন্ত ছেলে ছিল সৈকত। ফারহান ফাইয়াজও অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ছিল। আমাদের প্রত্যেক শহীদের একটা নিজস্ব গল্প বা নিজস্ব মহাকাব্যিক উপাখ্যান রয়েছে। সৈকতের উচ্চতা ছয় ফুটের মতো ছিল। ১৯ জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে মা-কে না জানিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে গিয়েছিল ছেলেটি। চায়না রাইফেল থেকে পুলিশের একটা দল যখন গুলিবর্ষণ শুরু করে, গুলিটা তখন সরাসরি তার কপাল ভেদ করে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে শাহাদাত বরণ করেন সৈকত।
তিনি আরও বলেন, ফাইয়াজ ও সৈকতের শাহাদাতের ঘটনা ওই সময় ব্যাপক আলোচিত ও আবেগ সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনকে মারাত্মকভাবে উদ্বেলিত করেছিল। এসব ঘটনা আমরা এখানে বিচারের জন্য উপস্থাপন করেছি। বাংলাদেশের মাটিতে এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
এমআই/এসএন