মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সংগীত জগতে পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জোজো, মিউজিসিয়ান কিংশুক মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গান-সংগীতের জগতে কিংশুককে ‘বাবলু’ নামে অনেকেই চেনেন। স্বামীর সঙ্গে সময় কাটানো এবং লাইমলাইট থেকে নিজেকে দূরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন জোজো।
এক সাক্ষাৎকারে গায়িকা জানিয়েছিলেন, ভালোবাসার টানে মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া জোজোর এই সাহসিকতা আজও অনেকের মনে থাকলেও, যুগে যুগে তাদের প্রেম এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় থেকেছে।
তাঁদের বিবাহিত জীবনে এক ছাদের তলায় বেশি সময় কাটানো হয়নি। জোজো থাকেন কলকাতায়, আর কিংশুক বসবাস করেন ডুয়ার্সে। তবুও কাজের ফাঁকে জোজো নিয়মিত উত্তরবঙ্গে উড়ে যান, এবং দূরত্ব কখনো তাদের ভালোবাসায় ভাটা আনতে পারেনি।
সম্প্রতি ৩২তম বিবাহবার্ষিকীতে জোজো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন স্বামীর সঙ্গে কাটানো স্মৃতির ছবি। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘শুভ ৩২তম বিবাহবার্ষিকী তোমাকে। বাবলু অথবা কিংশুক- যে নামেই ডাকি না কেন, তোমার সঙ্গে আমাদের এই রোলার কোস্টার যাত্রার আনন্দ, আবেগ আর স্মৃতি সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যেমন আছি, তেমনই সবসময় আনন্দে থাকব। আমাকে যতবার মিসেস জোজো মুখোপাধ্যায় বলে ডাকা হবে, নিজেকে ততবার ধন্য মনে করব।’
প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে প্রথমটিতে রয়েছে বিয়ের দিনের মুহূর্ত, যেখানে স্বামীর হাতে লাজুক মুখে সিঁদুর পড়ছেন জোজো। দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায় বর্তমান সময়ে তোলা কিংশুকের ছবি, তৃতীয় ছবিতে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার স্মৃতি, এবং শেষ ছবিতে একমাত্র মেয়ের সঙ্গে ধরা দিয়েছেন মিস্টার ও মিসেস মুখোপাধ্যায়।
জোজোর পরিবারকেও জনগণ মনে রাখে। তার বাবা, খ্যাতনামা অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়, ২০১৯ সালের ৭ মে প্রয়াত হন। অভিনয়ে যাত্রা শুরু করলেও জোজো মূলত সংগীতের জন্যই দর্শকের কাছে পরিচিত। বর্তমানে তার মেয়ে কাজের সূত্রে শহরের বাইরে থাকেন। এছাড়াও জোজোর জীবনে রয়েছে একটি ছেলে- আদি, যাকে কয়েক বছর আগে দত্তক নেওয়া হয়। ছোট্ট আদি বর্তমানে কলকাতায় মায়ের সঙ্গেই থাকেন।
৩২ বছরের বিবাহজীবনের মধ্য দিয়ে জোজো-কিংশুক যুগল প্রমাণ করেছেন, দূরত্ব, ব্যস্ততা বা সামাজিক প্রত্যাশা কখনো ভালোবাসাকে বাধা দিতে পারে না। তাঁদের সম্পর্কের রূপ যেন এক জীবন্ত গল্প- যেখানে ভালোবাসা, পরিবার এবং স্মৃতি মিলেমিশে দাঁড়িয়েছে সময়ের পরীক্ষায়।
এসকে/এসএন