পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আপনারা এখন থেকে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন কাকে ভোট দেবেন। যত বাধা আসুক সব বাধা মোকাবিলা করতে সরকার প্রস্তুত আছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবর্তন যদি আনতে হয় তাহলে আমাদের একই ব্যবস্থা, একই আইন-কানুন, একই মানুষ রাখলে পরিবর্তন আসবে না। এখন পরিবর্তন কি প্রক্রিয়ায় আনা যায় সেটার জন্য সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন করেছে। এসবের মধ্যে থেকে ছয়টি সংস্কার কমিশন করেছে যারা সরাসরি ভোটের সঙ্গে যুক্ত, তারা ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে জড়িত।
তাদের যে সুপারিশগুলো ছিল, সেগুলো নিয়ে দিনের পর দিন সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা চলে যাব, দেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যেসব বিষয় মনে করেছি, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করবে। আমরা সেগুলোর মোট ১২টি বিষয় নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট করছি। আপনারা এখন ‘হ্যাঁ’ ও বলতে পারেন আবার ‘না’ ও বলতে পারেন। যদি সংস্করণ ও পরিবর্তনের পক্ষে থাকেন তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিলটা দেবেন৷ আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছি, তার মানে এটা নয় কারো মনে অন্য কিছু থাকলে সেটা দিতে পারবে না, তবে আমরা কেন ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দিতে বলছি সেটা ব্যাখ্যা করেছি।
তিনি আরও বলেন, আগে ভোট দেওয়ার জন্য রাজপথে আন্দোলন করলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। আন্দোলনে অনেকে মারা গেলো তারপর একজন ক্ষমতায় এসে মনে করলো সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার উঠে দেব। তখন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোট করে কোনো না কোনোভাবে হয়ে যাব।
এখন যদি আপনারা ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দেন তাহলে সেটা হতে পারবে না কারণ তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাধ্যতামূলক হবে। সংবিধান ইচ্ছে মতো বদলে ফেলা সেটা আর হতে পারবে না, যদি ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দেন। যে কোনো বিষয় রাতারাতি পরিবর্তন আসে না, তবে আমরা ভিত্তিটা স্থাপন করে যেতে চাই।
এ সময়ে স্থানীয় সরকারের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব মো আবু জাফর, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জামানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আইকে/টিএ