‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ নেই। এটি বাংলাদেশের নিজস্ব প্রকল্প এবং চীন এতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও।
এর আগে সোমবার সকালে প্রথমে কাউনিয়া সেতু পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদীর উভয় তীরের ভাঙন পরিস্থিতি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পরে সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিস্তা নদীতে কিছু সময় নৌকা ভ্রমণ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত ও পানিসম্পদ উপদেষ্টা। নৌকা ভ্রমণের সময় তাঁরা নদীর ভাঙন, জেগে ওঠা চর, পানিপ্রবাহ এবং অববাহিকায় মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে তাঁরা নদীভাঙন এলাকায় এসে তিস্তা অববাহিকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং নদীভাঙন ও বন্যার কারণে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা শোনেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ভূরাজনৈতিক চাপ নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনের ভিত্তিতে নেওয়া প্রকল্প।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার গবেষণা ও কারিগরি সমীক্ষা শেষ করে তা চীনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগলেও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ২৬ জানুয়ারি কাজ শুরু না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ধাপ থাকে। আমরা চাই প্রকল্পটি টেকসই ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হোক। ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রহমান বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন ও প্লাবনের কারণে উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলনের পর এখন প্রকল্প বাস্তবায়নের যে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তাতে আমরা আশাবাদী।’
আইকে/টিএ