ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি বাড়ি থেকে সংগীতশিল্পী অনীতা ঘোষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে বেহালার বেচারাম চট্টোপাধ্যায় রোডের প্রিয়দর্শিনী অ্যাপার্টমেন্টের তিনতলার ফ্ল্যাট থকে ৬৪ বছর বয়সী এ শিল্পীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ৯টার দিকে পুলিশ খবর পায়। এর আগেই নিহতের ছেলে তাকে বেহালার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে এটা হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে। ঘটনার সময় অন্য ঘরে ছিলেন তার স্বামী অরূপ ঘোষ (সত্তরোর্ধ্ব), যিনি সরকারি সম্প্রচার সংস্থার (দূরদর্শন) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে অচল।
দম্পতি দু’জনেই ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। তাদের একমাত্র ছেলে কয়েক ব্লক দূরে অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। বাবা-মার জন্য তার ছেলে একাধিক কেয়ারগিভার ও গৃহপরিচারিকা নিয়োগ করেছিলেন।
প্রতিবেশীদের দাবি, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যায়। তবে ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।
এক প্রতিবেশী পুলিশকে বলেন, ‘আমরা অনেকক্ষণ দরজায় ধাক্কা দিই। পরে আগে কাজ করা এক মহিলা দরজা খুলে জানান, আরেক গৃহপরিচারিকা ওই নারীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।’
দক্ষিণ-পশ্চিম ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার রাহুল দে জানান, “নিহত নারীর শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। আমরা বাড়িতে কাজ করা তিনজনকে আটক করি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন হত্যার কথা স্বীকার করে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বারিশার বাসিন্দা সঞ্জু সরকার (৩৪)। প্রায় দুই বছর আগে থেকে সে ওই ফ্ল্যাটে কাজ করে আসছিল। সে ছুরি দিয়ে অনীতা ঘোষকে আঘাত করে।
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) রূপেশ কুমার বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ সে অনীতা ঘোষের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে সে তাকে হত্যা করে।”
পার্ণশ্রী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই হত্যা শুধুই টাকার জন্য নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে- তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
এমকে/টিএ