শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (সোশ্যাল মিডিয়া) ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার এক বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিশুদের মানসিক বিকাশে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ইঙ্গিত দেন।
গত মাসে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা দ্রুতই অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। ব্রিটিশ সরকার খতিয়ে দেখবে এই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর এবং এটি প্রযুক্তিগতভাবে কীভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “আজকাল অনেক শিশুর শৈশব মানেই হলো অন্তহীন স্ক্রলিং, অপরিচিত মানুষের বিচার বা ‘লাইক’ পাওয়ার মানসিক চাপ। এটি শিশুদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং তাদের এক ক্ষতিকর জগতে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, শিশুদের সুরক্ষায় সরকার যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং এ ক্ষেত্রে সব বিকল্প পথ খোলা রাখা হয়েছে।
লেবার সরকার কেবল নিষেধাজ্ঞাই নয়, বরং অ্যাপগুলোর 'ইনফিনিট স্ক্রলিং' ফিচারের মতো আসক্তি সৃষ্টিকারী বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্ট ও নগ্ন ছবি তৈরির টুল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কার্যকর হওয়া 'অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট'-এর মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সাইটে শিশুদের প্রবেশাধিকার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হয়েছে বলে সরকার দাবি করেছে।
নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা এখনো চূড়ান্ত না করলেও, বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন ব্রিটিশ সরকারের মূল লক্ষ্য।
এমআই/এসএন