গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের অটল মনোভাব

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে তিনি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা করবেন বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা এমন একটি সমাধানে পৌঁছাব, যাতে ন্যাটো খুব খুশি থাকবে এবং আমরাও খুশি থাকব। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি।’

গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য তিনি কতদূর যেতে প্রস্তুত- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প রহস্যজনক জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সময় হলে জানতে পারবেন।’

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে তার পরিকল্পনার বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকিও দিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ট্রাম্প কিউবা, কলম্বিয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। গ্রিনল্যান্ডে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় দ্বীপটি দখলে নিতে প্রয়োজনে মার্কিন সেনাবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি। 

পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন এমন সূত্র আগে রয়টার্সকে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত।

১৯৫৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সবচেয়ে বড় পরিসরে সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই তিনি এই উদ্যোগ নিচ্ছেন। ওই বছর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ারের আমলে আলাস্কা ও হাওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯তম ও ৫০তম অঙ্গরাজ্য হয়।

ন্যাটোর শীর্ষ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের কৌশল জোটের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। ট্রাম্প নিজেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়ে নিজের ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। কূটনৈতিক রীতিনীতি ভেঙে ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তার লেখা প্রকাশ করেন।

ওই বার্তায় ম্যাখোঁ দাভোসের পর প্যারিসে জি-৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ম্যাখোঁ বার্তায় লিখেছিলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কী করছেন, আমি তা বুঝতে পারছি না।’

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা কৌশলগত এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য নানা প্রস্তাব দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায়- ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ডে তিনি নিজ হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা গেড়ে দিচ্ছেন।

বুধবার দাভোসে দেওয়া মূল বক্তব্যে ট্রাম্প দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষই অর্থনীতি পরিচালনায় তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট। 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই বক্তব্যে ট্রাম্প বাড়ির উচ্চমূল্যের সমস্যা মোকাবেলায় একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকানরা বাড়ি কেনার অগ্রিম টাকা হিসেবে নিজেদের ৪০১(কে) অবসর সঞ্চয় পরিকল্পনার অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবাসন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ ঘোষণা করবেন, তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।’

দাভোস সফরকালে ট্রাম্প সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও মিসরের নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার তিনি ‘বোর্ড অব পিস’ উদযাপন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। এই বোর্ডটি ট্রাম্প নিজেই গঠন করেছেন, যার লক্ষ্য ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে গাজা পুনর্গঠন।

তবে গাজার বাইরে বৈশ্বিক সংকটেও এই বোর্ড কাজ করতে পারে- এমন মন্তব্য করে ট্রাম্প কিছু উদ্বেগের জন্ম দিয়েছেন। কারণ, সাধারণত এ ধরনের ভূমিকা জাতিসংঘ পালন করে থাকে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি জাতিসংঘকে পছন্দ করেন, তবে সংস্থাটি ‘কখনোই তার পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি’। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি ওয়াশিংটনে ফিরে যাবেন।

সূত্র : রয়টার্স

এমআই/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
আমার হাঁস চুরির চিন্তা করলেও ব্যবস্থা নেব: রুমিন ফারহানা Jan 21, 2026
img
বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে মুখ খুললেন রোহিত Jan 21, 2026
img
চতুর্থ সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন উষা ভ্যান্স Jan 21, 2026
img
ফের বিতর্কে রাখি সাওয়ান্ত Jan 21, 2026
img
হাঁসকে ধান খাইয়ে তারেক রহমানকে জয় উপহার দিতে চান শেখ মুজিবুর রহমান Jan 21, 2026
img
সুশান্তের জন্মদিনে দিদি শ্বেতার আবেগঘন পোস্ট Jan 21, 2026
img
ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন নির্ধারণ করল সরকার Jan 21, 2026
img
মদ্যপানে অভিযুক্ত ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য কারফিউ জারি! Jan 21, 2026
img
দেশে ১০-১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট : গভর্নর Jan 21, 2026
img
প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা চাই, দলীয় আমলাতন্ত্র নয় : রিজওয়ানা হাসান Jan 21, 2026
img
২ গোলে পিছিয়ে থেকেও শ্রীলঙ্কাকে হারাল বাংলাদেশ Jan 21, 2026
img
দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ Jan 21, 2026
img
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও জুলাই সনদে ইতালির সমর্থন Jan 21, 2026
img
মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই : জামায়াত আমির Jan 21, 2026
img
ম্রুনালের তালিকায় ধানুশ কততম প্রেমিক? Jan 21, 2026
img
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস Jan 21, 2026
img
নির্বাচনী কাভারেজ শুরু: মাঠে তিন মোবাইল জার্নালিস্ট Jan 21, 2026
img
ফাইনালে তোলা অধিনায়ক মেহেদীকে নিয়ে শরিফুলের মন্তব্য Jan 21, 2026
img
‘ভোটাররা তা‌রেক রহমান‌কে ভোট দেওয়ার জন্য মু‌খি‌য়ে আছে’ Jan 21, 2026
কতজন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলো জামায়াতের, জানালেন জামায়াত নেত্রী Jan 21, 2026