এ সময় নির্বাচনই আমাদের প্রাধিকার : সিআইডি প্রধান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৪ পিএম | ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
সিআইডিপ্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেছেন, এই সময় নির্বাচনই আমাদের প্রাধিকার।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সিআইডি সদর দপ্তরে দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার (অক্টোবর-ডিসেম্বর/২০২৫) উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পুলিশের মূল লক্ষ্য। আমরা এমন এক সময়ে এই সভা শুরু করছি যখন দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিকটে। এই সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, যা আমাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে যেখানে আছি, সেখান থেকেই আমাদের দায়িত্বটি সর্বোচ্চ পেশাদারি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। এই সভা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারব- (ক) আমরা বর্তমানে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, (খ) আমাদের তদন্ত কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে, (গ) কোথায় ঘাটতি বা লিকেজ রয়েছে এবং (ঘ) কোন ক্ষেত্রে আরো উন্নতির সুযোগ রয়েছে। আগামী দুই দিনে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’
সভাপতি আরো বলেন, ‘তদন্তই পুলিশের মূল ভিত্তি, আর সিআইডি হলো প্রধান তদন্তকারী সংস্থা। সুতরাং সিআইডির প্রতিটি তদন্তের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, এই দুই দিনকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে আরো ভালো করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করতে।’
তিনি নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সময় নির্বাচনই আমাদের প্রাধিকার। সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সিআইডিকে ব্র্যান্ডিং করা এবং একটি শক্তিশালী, আস্থাশীল ও পেশাদার তদন্ত সংস্থা হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সিআইডির সেন্ট্রাল ক্রাইমের ডিআইজি মো. নজরুল ইসলাম জানান, সভায় আলোচনার মূল বিষয় হবে সিআইডির কার্যক্রম ও তদন্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তার সমাধানের পদক্ষেপ নির্ধারণ করা। সভার শুরুতেই পূর্ববর্তী সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে, যেখানে দেখা হবে কোন সিদ্ধান্ত কতটুকু কার্যকর হয়েছে, কোথায় বিলম্ব বা ঘাটতি রয়েছে। এরপর তদন্তাধীন ও মূল মামলার অবস্থার বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে তদন্তের গতি, প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং রিপোর্টিং মান যাচাই করা হবে। এম/ই নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিশ্চিত করা যায় কোন মামলার নিষ্পত্তি সময়মতো হচ্ছে এবং কোথায় আরো দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা বিশ্লেষণের ওপর। কর্মকর্তাদের মামলার তদন্ত পদ্ধতি, প্রমাণ সংরক্ষণ, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রতিবেদনের মান মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া জি.আর ও সি.আর মামলার ক্ষেত্রে তদন্তের মান, তথ্যের স্বচ্ছতা, ত্রুটি বা ঘাটতি কোথায় হচ্ছে- সব কিছু খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া আদালত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত মামলার নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্পত্তি নিয়েও আলোচনা করা হবে।সভায় প্রতিটি ইউনিট প্রধান তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ তুলে ধরবেন, বিশেষ করে কোন ধরনের সমস্যা তাদের ইউনিটে বেশি দেখা দিচ্ছে এবং তা কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব।
এই আলোচনার ভিত্তিতে সিআইডি বিভিন্ন উদ্ভাবনী সমাধানের কৌশল নির্ধারণ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় জোরদার করা হবে।
এমআর/টিএ