উগান্ডার সামরিক বাহিনীর প্রধান শুক্রবার জানিয়েছেন, বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর কর্তৃপক্ষ দুই হাজার বিরোধী সমর্থককে আটক করেছে, ৩০ জনকে হত্যা করেছে এবং আরো অনেককে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। ওই নির্বাচনে তার বাবা ইয়োয়েরি মুসেভেনি সপ্তম মেয়াদে জয়ী হয়েছেন।
৮১ বছর বয়সী মুসেভেনি প্রায় চার দশক ধরে পূর্ব আফ্রিকার দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৫ জানুয়ারির ভোটে—যা ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অনুষ্ঠিত হয়—তাকে বিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম (এনইউপি) দলের নেতা ববি ওয়াইনকে বড় ব্যবধানে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।
সাবেক সংগীতশিল্পী ববি ওয়াইন, যার আইনগত নাম রবার্ট কিয়াগুলানিই, ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ব্যালট বাক্স ভরাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন এবং আত্মগোপনে চলে যান।
রাতভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে সামরিক বাহিনীর প্রধান মুুহোজি কাইনেরুগাবা—যিনি মুসেভেনির ছেলে—এনইউপি সমর্থকদের গ্রেপ্তার ও হত্যার প্রথম বিবরণ দেন। তিনি তাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি এক্সে লেখেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা ৩০ জন এনইউপি সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছি। ’ তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেননি। আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘এনইউপি সন্ত্রাসী নেতাদের বেশিরভাগই আত্মগোপনে রয়েছে। আমরা সবাইকে ধরব।’
সরকার নির্বাচনের সময় সহিংসতার জন্য ওয়াইনের সমর্থকদের দায়ী করেছে। বিপরীতে বিরোধী পক্ষ বলছে, তাদের সদস্যদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিরোধী নেতা ও সমর্থকদের গ্রেপ্তার এবং সহিংস ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মুখপাত্র স্টেফান দ্যুজারিক জানান।
দ্যুজারিক বলেন, ‘তিনি (মহাসচিব) সব পক্ষের সংযম, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং উগান্ডার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা পালনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।’
ওয়াইন অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার শত শত সমর্থককে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য ভয় সৃষ্টি ও তার সমর্থকদের ভীত করা।
ইউটি/টিএ