কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় যোগাযোগের নতুন মাত্রা যোগ হলো। চালু হলো সি ট্রাক। উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা। পর্যটনসহ অর্থনৈতিক বিকাশে গতি সঞ্চারের আশা তাদের। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে পেকুয়ার মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপে ফেরি চলাচল শুরু হবার আশা দেখছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে উঠা দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। ঘনবসতিপূর্ণ ২১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটিতে বসবাস প্রায় ২ লাখের কাছাকাছি মানুষের। অনাদিকাল থেকে দ্বীপে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল কাঠের নৌকা, ট্রলার, ড্যানিশ বোট ও স্পিড বোট। কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ও দরবার ঘাটের সঙ্গে যোগাযোগের পথ পেকুয়ার মগনামা ঘাট।
দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলের উত্তাল সাগরপথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে দ্বীপের হাজারো বাসিন্দাদের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পর্যটক। কিন্তু সাগর উত্তাল হলে বেকায়দায় পড়েন তারা। এতে বর্ষা মৌসুমে যাত্রাপথ হয়ে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ। যার প্রেক্ষিতে দাবি উঠে মগনামা-কুতুবদিয়া নৌরুটে সি-ট্রাক সহ নিরাপদ নৌযান চালুর।
অবশেষে রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে এ রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে সি-ট্রাক চলাচলের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। এতে উচ্ছ্বসিত দ্বীপের বাসিন্দারা। তবে ফেরি চালুর দাবিও করেন তারা।
দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা, নতুন এই সি-ট্রাক সেবা চালুর মাধ্যমে পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার্থী যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সি-ট্রাক উদ্বোধনের পর পেকুয়ার মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া যান নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। এসময় শিগগিরই মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়া ফেরি চালুর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে ঘাট নিয়ে রাজনীতি না করার হুঁশিয়ারি দেন উপদেষ্টা।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আজ কুতুবদিয়াবাসীর পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই-আজকের দিনটি আনন্দের, কারণ আমরা সি ট্রাক সার্ভিসটি চালু করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, কুতুবদিয়া একটি উপকূলীয় এলাকা। উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের সি ট্রাক ফেরি চলাচল করতে পারে না। উপকূলের জন্য যে বিশেষ ধরনের ফেরি প্রয়োজন, সেগুলো আমরা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলাম এবং ভেবেছিলাম ডিসেম্বরের মধ্যেই সেগুলো পাওয়া যাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কিছু কারিগরি কারণে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে সেই ফেরিগুলো পাইনি। তবে আমি আশাবাদী-বৃষ্টি বা ঝড়ঝঞ্ঝা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আমরা উপকূলীয় ফেরিগুলো হাতে পাব। উপকূলীয় ফেরি পাওয়া গেলে তখন এখানে সেগুলো চালু করা হবে। কারণ আপনারা জানেন, এটি একেবারে সমুদ্রের মুখে অবস্থিত। এখানে বর্তমানে যে সি ট্রাক চলছে, সেগুলো মূলত ছোট নদী জন্য, কিন্তু সমুদ্র উপযোগী নয়। এই কারণে আমরা আপাতত এই সি ট্রাকটি উদ্বোধন করে দিয়েছি। উদ্বোধন না করলে বিষয়টি আরও পিছিয়ে যেত। এই সি ট্রাক সম্ভবত মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এরপর যখন ঝড়ঝঞ্ঝার মৌসুম শুরু হবে, তার আগেই আশা করি আমরা উপযুক্ত উপকূলীয় ফেরি পেয়ে যাব।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলাম, আমার সময়ের মধ্যেই যদি সেই ফেরি দিতে পারতাম, তাহলে খুব খুশি হতাম। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আমি বিআইডব্লিউটিএ-কে নির্দেশনা দিয়েছি-ফেরি চলাচল উপযোগী করতে যদি ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা যেন দ্রুত করা হয়। আশা করছি, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অন্তত একটি নতুন ফেরি আমরা পেতে পারি এবং সেটি কুতুবদিয়ায় স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সবশেষে আমি কুতুবদিয়ার সকল স্থানীয় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাতে চাই-ফেরি ও ফেরিঘাট নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি করবেন না। এটিকে জনসাধারণের চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখুন, যাতে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছভাবে চলতে পারে।
২০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার সি-ট্রাকটি মগনামা ঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা, দুপুর ২টা, সন্ধ্যা ৭ টায় কুতুবদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। কুতুবদিয়া থেকে পেকুয়ার মগনামা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছাড়বে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা, বেলা ১২টা ও বিকেল ৫টায়। জনপ্রতি ভাড়া ধরা হয়েছে ৩০ টাকা।
টিজে/টিএ