জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, আমরা মুখ খুলতে চাই না, আজকে শুধু বুকের বোতাম খুললাম, যদি মুখ খুলি তাহলে আপনারা জাতির সামনে ভোট তো দূরের কথা, দাঁড়াবারও যোগ্যতা-নৈতিকতা হারিয়ে ফেলবেন। রাজাকার রাজাকার খেলার দিন শেষ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী এসএ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আলোচনার পয়েন্ট হচ্ছে আমি ওমুক আরেকজন ওমুক। তাহলে আমারও তো বলতে হয়, আপনি যে বয়সে বোতাম খুলে গুলি ধারণ করছেন ওই বয়সটা এখন শফিকুল ইসলাম মাসুদ পার করতেছে।
তিনি আরও বলেন, এই জাতি বিরক্ত হয়ে এই স্লোগান তুলেছিল বিগত সরকারের বিরুদ্ধে- “তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার”, “কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার।” সুতরাং যারা আবার এই কথা বলবে, জাতি তাদের স্বৈরাচার হিসেবে চিহ্নিত করবে।
সমাবেশে উপস্থিত মা-বোনদের উদ্দেশে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সবাই বলে ভোট দেওয়ার সময় হুঁশ করে দেবেন, আমরাও তো বলি হুঁশ করে দিবেন। যাকে খুশি তাকে দেবেন না, এবার যোগ্য এবং সৎ দেখে দেবেন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবু সাইদ-মুগ্ধ, আমাদের ৭ শহীদের রক্তস্নাত বাউফল, আড়াই শতাধিক আহত পঙ্গুত্ববরণকারীদের বাউফলে যদি আগামী ১২ তারিখ ফজরের পরে অথবা কেন্দ্রে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ে, বুক পেতে দিয়ে গুলির সামনে আরেকবার দাঁড়িয়ে আমার কেন্দ্র পাহারা দিতে হয়, আমার ভোট পাহারা দিতে হয়, আমার মা-বোনদের পাহারা দিতে হয়- তরুণ-যুবকরা ওয়াদা করো সবাই রাজি আছো তো? এ সময় উপস্থিত জনতা সমস্বরে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ।’
এর আগে রোববার রাতে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার মন্তব্য করেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন রাজাকার।’
সমাবেশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফলকে ঘিরে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ১১ দলীয় জোটের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও শহিদুল আলম তালুকদার ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মালেক হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান।
এমআর/টিএ