গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দেশে দুটি পক্ষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আখতার হোসেন।
তিনি বলেছেন, একটা পক্ষ সংস্কার ও বিচার চায়। আরেকটা পক্ষ সংস্কার ও বিচার চায় না। একটা পক্ষ আধিপত্যবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত একটা বাংলাদেশ গড়তে চায়। আরেকটা পক্ষ গোলামির বাংলাদেশ গড়তে চায়। হ্যাঁ মানে সংস্কার, বিচার ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ। না মানে সংস্কার, বিচার কিছুই হবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের কারবালার মাঠে নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, গণভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখন। আমরা কোন বাংলাদেশের পক্ষে থাকবো। আমরা আজাদির বাংলাদেশের পক্ষে থাকবো, নাকি গোলামির বাংলাদেশের পক্ষে থাকবো। আজাদির বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে হলে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে থাকার কোনো বিকল্প নেই। সংস্কার ও বিচারের বিকল্প নেই। নতুন বাংলাদেশের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, শাপলা কলি মার্কায় আল্লাহ যদি আমাকে সংসদে কবুল করে, তাহলে শুধু পীরগাছা-কাউনিয়া নয়, গোটা রংপুর অঞ্চলের বৈষম্য নিরসনের জন্য সংসদে কথা বলবো। আমরা ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। মানুষ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জেগে উঠেছে।
আখতার হোসেন বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ যে রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্য দিয়ে নিষ্পেষিত হয়েছে, তারা তা থেকে মুক্তি চায়।একনায়কতন্ত্রের বদলে জনগণ এখন একটি অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। সেই ব্যবস্থার মূল উপাদানগুলো ‘জুলাই সনদে’ রয়েছে।তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমাদের সবার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকা উচিত।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খানসহ এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের ১০ দলীয় জোট থেকে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
আসন সমঝোতার কারণে আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজম খান।
এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায় (ডাব), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেন (হাতপাখা)।
এমআর/টিএ