জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে (আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর) রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান ও বিক্ষোভ করে জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি তুলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয় বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমিরের পক্ষে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হলেও সেগুলো অপসারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন; বরং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পঞ্চগড়-১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও পঞ্চগড় শহর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন সরকার বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলো হলো– ‘গত ফ্যাসিস্ট আমলে অনুষ্ঠিত ৩টি নির্বাচনে যেসব প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের বাদ দিতে হবে। দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হতে পারবেন না। যারা ইতোপূর্বে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার ছিলেন না, বিশেষ করে মাদ্রাসার শিক্ষকরা, যারা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন তাদের এ কাজে নিয়োগ দিতে হবে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে এবং পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, তাদের যেসব ফেস্টুন নিয়ে আপত্তি, পক্ষপাতমূলক আচরণ নয়, আমরা নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত দিবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিজে/এসএন