বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে দূষিত শহরের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে।
সকাল ৯টার দিকে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৯১, যা পরিবেশগত মানদণ্ডে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আইকিউএয়ারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ১৯৫ স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। চরম বায়ুদূষণে ধুঁকছে শহরটি। ১৯১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি।
বাতাসের এই অস্বাভাবিক দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে মেগাসিটিগুলোতে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তাকে ‘ভালো’ বলা হয়, আর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর যেহেতু এই সীমার মধ্যে রয়েছে, তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদের ক্ষেত্রেও বাড়ির বাইরের শারীরিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বায়ুমান ৩০০ অতিক্রম করলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শুষ্ক মৌসুমের ধূলিকণা ঢাকার বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে। নিয়মিত রাস্তাঘাটে পানি না ছিটানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক এই সূচকটি মূলত পিএম ২.৫ নামক অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যেতে পারে। ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য এই নীরব ঘাতক থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এসএস/এসএন