আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে টানা চার দিন ছুটি থাকবে। সরকার নির্বাচনের পূর্বদিন, ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় ভোটের দিনসহ চার দিন টানা ছুটি হবে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকায় তারা টানা তিন দিন ছুটি পাবেন।
নির্বাচন ও টানা ছুটির এই সংমিশ্রণ ভোটার উপস্থিতি এবং মানুষের চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটাররা চাইলে ভোট দিতে বা না দিতে পারেন; ভোট বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়মাবলী ভ্রমণ ও ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের দিন কোনো যানবাহন ইসির অনুমোদন ছাড়া চলাচল করতে পারবে না।
এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ ছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও লঞ্চ চলাচলও সীমিত থাকবে। তবে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক বা জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলি জানান, নিরাপত্তার কারণে নির্বাচনী এলাকায় চলাচলে কিছু নির্দেশনা থাকতে পারে, তবে সাধারণ মানুষকে অন্য এলাকায় ঘুরতে বাধা দেওয়া হয় না।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ভোটারের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বাধা নেই, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মূলত ভোটারদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে সহায়তা করছে।
নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও চেকপোস্ট থাকায় কিছু এলাকায় বহিরাগত প্রবেশ বা ভ্রমণ সীমিত হতে পারে। হোটেলে অতিথিদের পরিচয় যাচাই বা ভ্রমণের উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করার মতো পদক্ষেপও দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াব) জানিয়েছে, ভোটের দিন তারা কোনো বুকিং বা প্যাকেজ গ্রহণ করছেন না। তবে নির্বাচনের পরপরই দেশের ভেতরে ও বাইরে ভ্রমণের জন্য সব ধরনের প্যাকেজ চালু হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চার দিনের ছুটি অনেকের জন্য ব্যক্তিগত কাজ বা ভ্রমণের সুযোগ হতে পারে। তবে ভোট ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রমকে সীমিত করতে পারে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
এমআই/এসএন