নির্বাচিত হলে জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করে, আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়া কামড়ি করবো না। পেছনের দিকে দৌড়বো না, যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী মাহবুব আলম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী রেজাউল করিম ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী হাফিজ উল্যাহর হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, যুবকরা, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোনো দাবি জানাওনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সঙ্গে বলবে যে, ‘আমিই বাংলাদেশ। আমায় দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কী জিনিস।’ আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে দিতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী হচ্ছেন যুবক। বার্তা দিচ্ছি, আগামীর দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন, মায়েদের হাতে আপনারা ফ্যামিলি কার্ড দেবেন, আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই আপনারা হাত দিচ্ছেন। আপনারা মায়েদের কীভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। সকালের সূর্য দেখলেই বুঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বুঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে।

তিনি আরও বলেন, মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল, আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন।

তিনি বলেন, দেশবাসী রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্ত দেখেছে, ৫৪ বছর দেখেছে। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছুঁড়েছে। যে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক আমরা চাই না।

জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এটিএম মাসুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব প্রমুখ।

কেএন/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
চীনের সাথে বাণিজ্য ‘খুবই বিপজ্জনক’, যুক্তরাজ্যকে ট্রাম্প Jan 30, 2026
img
ধোঁকায় পড়ে দেশটাকে ধ্বংস করতে চাই না : রেজাউল করিম Jan 30, 2026
img
হিরণের বিয়ে-বিতর্কে নতুন মোড়! Jan 30, 2026
img
বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করল আমিরাত Jan 30, 2026
img
নির্বাচনের রেজাল্ট পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে : মির্জা আব্বাস Jan 30, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেল শ্রীলঙ্কার সাবেক অলরাউন্ডার Jan 30, 2026
img
১ সপ্তাহ কিয়েভে হামলা বন্ধে পুতিনকে অনুরোধ ট্রাম্পের Jan 30, 2026
img
পদত্যাগ করে জামায়াতে যোগ দিলেন ছাত্রদল নেতা Jan 30, 2026
ছেলের জন্য পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইমরান হাশমি Jan 30, 2026
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে এই ৩টি কাজ করুন | ইসলামিক টিপস Jan 30, 2026
img
প্রসেনজিৎ ও দেব এক ফ্রেমে, বৈঠকের বিতর্কের অবসান নাকি সৌজন্য সাক্ষাৎ? Jan 30, 2026
img
ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান Jan 30, 2026
img
নিজের হাতকে শাপলা কলি বানালেন জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img
২৩ বছরের ছেলে আরভের প্রেমজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় টুইংকেল খান্না! Jan 30, 2026
img
জনগণের ভোটই সব ষড়যন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকবে: ড. এম এ কাইয়ুম Jan 30, 2026
img
প্রেক্ষাগৃহে নতুন ভার্সনে মুক্তি পাচ্ছে ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ Jan 30, 2026
img
ট্রাম্পের কারণে পেশাগত স্বাধীনতা নেই, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান অভিনেত্রী Jan 30, 2026
img
নির্বাচিত হলে পুরনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করব না: জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন: নাহিদ ইসলাম Jan 30, 2026
img
নোয়াখালী যেন গরিবের বউ, সবার ভাবি: হান্নান মাসউদ Jan 30, 2026