বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা ঘিরে যশোরে লোকে লোকারণ্য। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। বর্ণময় সাজে সজ্জিত হয়ে, নেচে-গেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলের দিকে আসতে থাকেন। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে যশোর শহরসহ আশপাশের এলাকা।
সোমবার বেলা ১১টার পর থেকে উপশহর কলেজের বিশাল মাঠে জনসমাগম বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সবার কপালে ফ্যাটা বাঁধা, মাথায় টুপি। এক এক গ্রুপ এক এক ধরনের সাজে সজ্জিত হয়ে সভাস্থলে আসেন।
সকাল থেকে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সজ্জিত হয়ে ছোট ছোট শিশুদের মাঠজুড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অনেকে পুরো শরীরে পাকা ধানের শীষ জড়িয়ে নিয়ে এসেছেন। কারো হাতে রয়েছে জাতীয় পতাকা। কেউ ধরে আছেন দলীয় পতাকা। মুখে সবার একই স্লোগান ‘তারেক জিয়া আসছে, যশোরবাসী হাসছে’, ‘তারেক জিয়া আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’।
যশোরের আট উপজেলা ছাড়াও মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। বাঘারপাড়ার জহুরপুর থেকে আসা নুরনবী নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, দীর্ঘ ত্যাগ স্বীকার করে বিএনপির চেয়ারম্যান দেশে ফিরেছেন। কখনও তাকে সরাসরি না দেখলেও আজ তাকে সরাসরি দেখছি। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তিনি যশোর থেকে নানা পরিকল্পনা দেবেন। তার আগমনকে ঘিরে সমগ্র যশোরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
মণিরামপুর থেকে আসা আজগর আলী বলেন, ফজরের নামাজ পড়েই জনসভায় এসেছি। সামনে থেকে তারেক রহমানকে দেখবো বলে। তার বক্তব্য শুনবো বলে। তিনি যেভাবে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সময়ে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন; আগামীতে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে আরও নেতৃত্ব দেবেন।
অভয়নগর থেকে আসা বিএনপিকর্মী রিয়াজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য এবং তার মুখ থেকে নির্বাচনী বার্তা ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের দিকনির্দেশনা শোনার জন্য তিনি সমাবেশে এসেছেন।
অন্যদিকে, সোমবার ভোর থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সমাবেশস্থলে অবস্থান করছেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন জেলা পুলিশ। তারা যশোর-মাগুরা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-খুলনা, যশোর-নড়াইল সড়কে অবস্থান করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতা কর্মীদের গাড়িবহর নির্দিষ্ট স্থানে রাখার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এর আগে ডগস্কোয়াড দিয়ে মাঠ রেকি করে গেছে র্যাবের একটি টিম।
যশোর উপশহর বিরামপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এখানেই তারেক রহমানের হেলিকপ্টার এসে অবতরণ করবে। সেখান থেকে তিনি লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে হাজির হবেন সমাবেশস্থলে।
ইউটি/টিএ