© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চট্টগ্রাম বন্দর অচল, ডিবি পরিচয়ে কয়েকজনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম বন্দর অচল, ডিবি পরিচয়ে কয়েকজনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৯ পিএম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির কারণে অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম।

এদিকে, আন্দোলনে সম্পৃক্ত কয়েকজন প্রভাবশালী শ্রমিক নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন নেতারা। ডিবি পরিচয়ে যাদের তুলে নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- আবুল কালাম, শামসুল মিয়া টুকু, রিপন ও আসাদুল। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে রোববার সকালের মধ্যে তাদের আটক করা হয়।

তবে আটকের বিষয়ে মুখ খুলছেন না চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো কর্মকর্তাই।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি} কাজী আবদুর রহীম বলেন, আমাদের কোনো টিম কাউকে আটক করেনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, সংগ্রাম পরিষদের দুজন নেতাসহ কয়েকজনকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন। শক্তি প্রয়োগ হলে আরও কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমানো যাবে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিকেলে শ্রমিকরা দুদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা। 

ওইদিনই বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত ১৫ শ্রমিক নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করে। পাশাপাশি তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। 

চিঠিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। আন্দোলনের মধ্যে তাদের প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তালিকার অন্যরা হলেন মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

এর প্রতিবাদে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া দেন।

রোববার সকাল থেকে ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো, বহির্নোঙরসহ বন্দরের সব স্থানে কাজ বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন গেটের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

উপদেষ্টা জানান, বন্দর নিয়ে চুক্তি করতে ডিপি ওয়ার্ল্ড আরও সময় চায়। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরেও নেগোসিয়েশন চলবে বলেও জানান তিনি। 

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন