থাইল্যান্ডের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী অনুতিনের দল প্রাথমিকভাবে এগিয়ে!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৩ পিএম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
থাইল্যান্ডে রবিবার সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চারনাভিরাকুলের দল ভুমজাইথাই পার্টি প্রাথমিকভাবে এগিয়ে যায়। তবে তিন দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোনো দলের এককভাবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আকস্মিক এই নির্বাচনের ডাক দেন অনুতিন।
সে সময় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে তীব্র সীমান্ত সংঘাত চলছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগাতে রক্ষণশীল এই নেতা সময় নির্বাচন করেছিলেন।
তখন অনুতিন ক্ষমতায় ছিলেন ১০০ দিনেরও কম সময়। কম্বোডিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয়তাবাদী পেউ থাই পার্টির প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রা অপসারিত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব নেন।
থাই ভোটাররা রবিবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভোট দিতে বের হন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয় এবং সন্ধ্যা জুড়ে প্রাথমিক ফল আসতে থাকে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনা শেষে ভুমজাইথাই পার্টি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পিপল'স পার্টি, এরপর পেউ থাই পার্টি।
কোটিপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা-সমর্থিত পেউ থাই পার্টি পিছিয়ে থাকলেও পুরোপুরি ছিটকে যায়নি বলে জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে। মেয়ের অপসারণের কয়েক দিনের মধ্যেই থাকসিন কারাদণ্ড ভোগে যান।
ভোট দেওয়ার পর উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বাইরে বুরিরাম সিটিতে সাংবাদিকদের অনুতিন বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যা করার, সবই করেছি। আমরা আশা করি জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রাখবে।’
প্রগতিশীল পিপলস পার্টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কারের বার্তা নিয়ে প্রচারণা চালায় এবং নির্বাচনী মৌসুমজুড়ে বেশির ভাগ জনমত জরিপে এগিয়ে ছিল।
ব্যাংককের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী থিতিনান পংসুধিরাক বলেন, ‘এই নির্বাচন মূলত এই প্রশ্নে- থাইল্যান্ড কি তার স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে পারবে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে কি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার প্রাথমিক ধারণা- দুঃখজনকভাবে- তা ঘটবে না।’
ভোট শুরুর পর ব্যাংকজুড়ে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ধারাবাহিক উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের মধ্যে ৪৪ বছর বয়সী এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সুয়াত কিয়াতসুয়ান বলেন, ‘আমি আর একই মানুষদের চাই না। আগের মতোই ভোট দিলে কিছুই বদলাবে না। আমরা কোথাও এগোচ্ছিলাম না।’
এসকে/টিএ