আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে চুক্তির লাভ-লোকসান নির্ধারণ বিভ্রান্তিকর: আশিক চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত
১২:৩৭ এএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক চুক্তিগুলো অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক মডেলের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেছেন পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি বলেন, আংশিক তথ্য বা নির্দিষ্ট কয়েকটি সংখ্যার ভিত্তিতে এসব চুক্তির লাভ-লোকসান নির্ধারণ করা বিভ্রান্তিকর এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, একটি কনসেশন অ্যাগ্রিমেন্ট প্রায় ৩০০ পাতার ডকুমেন্ট, যেখানে শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত থাকে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাতেই তারা এক হাজারের বেশি পয়েন্টে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রতিটি পয়েন্ট নিয়ে দীর্ঘ ও কঠিন দর-কষাকষি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পাবলিক ডোমেইনে সিলেক্টিভভাবে একটি বা দুটি পয়েন্ট তুলে ধরে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা পুরো চুক্তির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না।
প্রফিটেবিলিটি নিয়ে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, পিপিপি প্রকল্পে লাভ-লোকসান তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায় না। ৩০ বা ৪৫ বছর পর কী পরিমাণ রিটার্ন আসবে—এটা একটি জটিল ফাইন্যান্সিয়াল মডেলের ওপর নির্ভর করে। একক কোনো সংখ্যা দিয়ে এটাকে বিচার করা অবৈজ্ঞানিক।
এপিএম টার্মিনালসের অতীত ঘুসকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনা বিতর্কের জবাবে পিপিপি প্রধান বলেন, যেকোনো সরকারি চুক্তির ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, যদি কেউ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আর যদি কিছুই না হয়ে থাকে, তাহলে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে যারা স্মিয়ারিং ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন আরও বলেন, আমরা যেকোনো ধরনের তদন্ত ও যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্সকে স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সতর্কতা বজায় রাখা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে, কারণ অতীতে খুব বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়নি। এ বাস্তবতায় জটিল চুক্তিগুলো নিয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন, গুজব বা অপপ্রচার নয়।
টিজে/টিএ