© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে তারেক রহমান / শাসকরা মালিক নয়, হবে সেবক

শেয়ার করুন:
শাসকরা মালিক নয়, হবে সেবক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২০ এএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই হবে না। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং দেশের টাকা দেশে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, তা রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতা দেওয়ার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। আমরা সেই পাচার হওয়া সম্পদ এনে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। ক্ষমতায় গেলে মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বিএনপি।

প্রশাসন পরিচালনার বিষয়ে বিএনপির নীতি স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে কেবল সংবিধান মোতাবেক। আমরা এমন এক রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে শাসকরা নিজেদের মালিক মনে করবে না, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে শাসক শ্রেণি সরকারি পদপদবিকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে।

যা রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে ফোকলা করে দিয়েছে। তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় যেতে পারলে প্রথম দিন থেকেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব। আমাদের লড়াই ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার। তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে যথাসময়ে পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ড্রপআউট হওয়া শিক্ষার্থীদের বেকারত্ব রুখতে উচ্চবিদ্যালয় থেকে কারিকুলামে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ। সংবিধানে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল।

কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকার। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৭ নভেম্বরের আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ আন্দোলন, শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম-ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে অসংখ্য মানুষ দেশের জন্য অকাতরে জীবন দিয়েছে। তিনি বলেন, একটি প্রাণের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনা। কোনো কিছুর বিনিময়েই সেই ক্ষতির পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা যারা এখনো বেঁচে আছি, আমাদের দায়িত্ব শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি নাগরিকের হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন একটি বড় সুযোগ। একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তারেক রহমান।

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন