© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঢাকার পানিদূষণ কমাতে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিবে বিশ্বব্যাংক

শেয়ার করুন:
ঢাকার পানিদূষণ কমাতে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিবে বিশ্বব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:০৫ পিএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পানিদূষণ কমানো এবং স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

আজ বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকার সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নদী, খাল ও জলাশয়ের পানিদূষণ কমিয়ে নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা এবং ৫ লাখ মানুষ উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার আওতায় আসবে। বিশেষ করে দূষণ ও সেবাবঞ্চিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার পানিদূষণ সংকট মোকাবিলায় টেকসই সমাধান গড়ে উঠবে এবং নগরবাসীর জীবনমান উন্নত হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, জলাশয়গুলো ঢাকার কোটি মানুষের জীবনরেখা। কিন্তু দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রকল্প নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দা পাইপযুক্ত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। অন্যদিকে ৮০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। এ ছাড়া শহরের অর্ধেকের বেশি খাল বিলীন হয়ে গেছে বা বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত। সাত হাজারের বেশি কারখানা থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ২৪০ কোটি লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি নদী ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, স্নায়বিক সমস্যাসহ নানা রোগ বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ওয়াটার স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার হর্ষ গোয়েল বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। প্রথম ধাপে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শুরু হবে। নদীর পানি পরীক্ষায় ডিজিটাল রিয়েল টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও আধুনিকায়ন, পানির পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালানো হবে; যাতে কেউ সরাসরি ড্রেন বা নদীতে বর্জ্য না ফেলে।

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন