© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ত্রয়োদশ নির্বাচনের মাধ্যমে ৩৬ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ নির্বাচনের মাধ্যমে ৩৬ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১৪ এএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক বাঁক ঘোরানোর মুহূর্ত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত-মাঝে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বল্প সময় বাদ দিলে-প্রায় সাড়ে তিন দশক দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দুই নারী নেত্রী। সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের পর এবার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা।

২০২৪ সালের ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগ এবং একই বছরের শেষদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কার্যত অবসান ঘটে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ‘দুই নেত্রীর যুগের’। স্বাধীনতা- পরবর্তী রাজনীতিতে যা ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ ও প্রভাবশালী নেতৃত্বের পর্ব।

১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোত। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু রাজনৈতিক সমীকরণে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো নারী নেই। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। দলটি বিজয়ী হলে তিনিই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী-এমনটাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটেও পুরুষ নেতৃত্বই সামনে রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ ছিলেন দেশের সর্বশেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয় নারী নেতৃত্বের দীর্ঘ অধ্যায়। সেই হিসাবে প্রায় ছত্রিশ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন-যা সংসদীয় ইতিহাসে বড় পরিবর্তন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন তাজউদ্দীন আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান, মুহাম্মদ মনসুর আলী, শাহ আজিজুর রহমান, আতাউর রহমান খান, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মওদুদ আহমদ ও কাজী জাফর আহমদ। এরপর দীর্ঘ সময়জুড়ে দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।

সাম্প্রতিক অতীতের নির্বাচন নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার’, ২০১৮ সালকে ‘রাতের ভোটের’ এবং ২০২৪ সালকে ‘ডামি ভোটের’ নির্বাচন বলে সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক মহলের অনেকে। সেই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্রের গ্রহণযোগ্যতা পুনর্গঠনের এক বড় পরীক্ষাও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য, গত তিন দশকে নারী নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় পুরুষ নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের দাবিতেই পরিণত হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে বহু উত্থান- পতনের সাক্ষী বাংলাদেশ। কিন্তু ‘দুই নেত্রীর যুগ’ ছিল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী অধ্যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি টেনে নতুন রাজনৈতিক সূচনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই-নতুন নেতৃত্ব কি স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং সহাবস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে?

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন